মা দুর্গার সা’থে কেন পূজিত হন মহিষাসুর? জেনে নিন

মাঝে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই বাঙালি সবথেকে বড় উৎসব দুর্গোত্সবের শুরু। পাঁচ দিন ধরে বাংলার ঘরে ঘরে পূজিত হবেন মা দুর্গা। মায়ের আগমনে প্রস্তুতিতে সারা বাংলা জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। তবে মা দুর্গা শুধু একা নন, তার সঙ্গে পুজা পাবেন তার চার ছেলেমেয়ে লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক এবং মা দুর্গার পায়ের কাছে বসে পুজো পাবেন মহিষাসুর‌।

স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য মা দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল তাকে কেন যুগ যুগ ধরে পূজো করে আসছে বাঙালি? মহিষাসুর তো আসলে অসুর। যাকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করার নেপথ্যে রয়েছে কোন কাহিনী? মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্ট, ভয়-ভীতি, আপদ-বিপদের পথিকৃৎ এই আসুরিক শক্তিকে পূজা করার নেপথ্যে কারণ কি?

শাস্ত্রমতে বলে মা দুর্গার কাছে মৃত্যুর আগে মহিষাসুর স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দৃশ্য দেখে ভীত হয়ে উঠেছিল। তখন সে ভদ্রকালীকে তুষ্ট করে। ভদ্রকালী মহিষাসুরের আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে বরদান করতে ইচ্ছুক হন। সেসময় মহিষাসুর দেবতাদের যজ্ঞভাগ কামনা করেছিল। তবে দেবী ভদ্রকালী মহিষাসুরকে অন্য বর দেন।

ভদ্রকালী মহিষাসুরকে এই বর দেন যে দুর্গা যেখানেই পূজিত হবেন, তার পদতলে বসে পূজা পাবে মহিষাসুর। সেই থেকে তাই দুর্গাপূজার সময় মহিষাসুরেরও পুজো করার চল হয়ে আসছে। দেবী দুর্গার চরণ তলে বসে পূজা পাচ্ছে মহিষাসুর।