জামাইষষ্ঠী কে’নো পা’ল’ন করা হয়? আ’স’ল কা’র’ণ জান’লে ব’ড্ড দুঃখ পাবেন জামাইরা

কাল জামাইষষ্ঠী। লকডাউন থাকার কারণে শ্বশুড়বাড়ি যেতে পারবেন না। আবার অনেকেই বাইকে অথবা গাড়িতে শ্বশুরবাড়ি যাবেন জামাইষষ্ঠী খেতে। তবে অনেকেই হয়তো আমরা জানিনা জামাইষষ্ঠী কখনোই জামাইদের জন্য অনুষ্ঠিত হয় না। মূলত মেয়েদের মঙ্গল কামনার জন্য বাপের বাড়ি থেকে আয়োজিত করা হয় এই অনুষ্ঠানটি। বাপের বাড়িতে নিয়ে এসে আদর যত্ন পাবে আর জামাই পাবে না তা কি কখনো হয়! তাই জামাইরা যদি দুঃখ পায় সেই ভয়ে তাকে আমন্ত্রণ করে আদর যত্ন করা হয। জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তে মা ষষ্ঠীর পুজো করা হয়। বিয়ের পর কন্যা যাতে সন্তানবতী হয়, সেই আশীর্বাদ পাবার জন্য মঙ্গল কামনায় পুজো করা হয়। পাশাপাশি মেয়ে যাতে সুখের সংসার করতে পারি এই আশা নিয়েও পুজো করা হয়।

কিন্তু সষ্টি পুজোর আগে জামাই শব্দের যোগসাধনায় পরবর্তীকালে তা জামাইষষ্ঠী রূপে পরিবর্তিত হয়ে যায়। কিন্তু আদতে তা নয়! মাতৃত্ব বংশ বৃদ্ধি এবং সুখী দাম্পত্য জীবন যাতে কাটাতে পারে মেয়ে, সেই উপলক্ষে মা ষষ্ঠীর কাছে পূজা দেয়া মেয়ের মায়েরা। জামাইষষ্ঠীর পেছনে অনেক ইতিহাস আছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু জাতির মধ্যে সংস্কার ছিল যে কন্যা যতদিন না পুত্রের মা হচ্ছেন, ততদিন কন্যার বাবা-মা কেউ তার বাড়ি যেতে পারবেন না।

মেয়েকে পর্যন্ত দেখার নিয়ম ছিল না তাদের। এদিকে কন্যা সন্তান জন্ম হয়, তাহলে কখনোই দেখতে পেতেন না তারা মেয়েকে। কিন্তু এই সমস্যার বিহিত করার জন্য সমাজের বিধানদাতা জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তে এমন পুজো করার নিয়ম করলেন, যেখানে মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ করে আদর যত্ন করতে হবে। এটাই বলা হয় জামাইষষ্ঠী। মূলত জামাইকে আদর করে সমাধান করার কারণ হলো মেয়ে কে যাতে সুখে রাখা যায়। পাশাপাশি এই নিয়মের কারণে বছরে একবার হলেও মেয়ের মুখদর্শন করতে পারতেন বাবা-মায়েরা। সেই প্রথা আস্তে আস্তে পাল্টে গিয়ে জামাই ষষ্ঠী তে পরিণত হয়েছে।