কি জন্য দোল পূর্ণিমার আগের দিন পালন হয় “ন্যাড়া পোড়া”? জেনে নিন কি এই রীতি

আগামী রবিবার সারাদেশে পালিত হবে দোল উৎসব। পুরান মতে কথিত রয়েছে যে, অত্যাচারী রাজা হিরণ্যকাশিপু প্রজাদের নির্দেশ দিতেন ঈশ্বরের আরাধনা না করার জন্য। তবে এমনি ভাগ্যের ফের যে, তার ছেলে প্রহ্লাদ ছিলেন স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত। অত্যাচারী বাবার নির্দেশ কখনোই মানতেন না তিনি। বাবার আদেশ অমান্য করেই তিনি বিষ্ণুর আরাধনা করতেন সব সময়। হিরণ্যকশিপু একমাত্র ছেলের এই বিষ্ণু দেবীর আরাধনা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তার ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।প্রহ্লাদ কে তার বোন হোলিকার কোলে বসিয়ে তিনি দুজনের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন।কিন্তু অস্বাভাবিক ভাবে ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে প্রাণ ফিরে পান প্রহ্লাদ। একইসঙ্গে পুড়ে ছাই হয়ে যায় হোলিকা। সেই থেকে আজও আমাদের দেশে পালিত হয় ন্যাড়া পরা।

নেড়া পোড়ার উদ্দেশ্য হলো সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির জয় করা। এই নেড়া পোড়ার মানে মন্দ কে সরিয়ে দিয়ে ভালো অথবা শুভ জিনিসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতিবছর ফাগুনি পূর্ণিমা রাতে ন্যাড়াপোড়া অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরে দোল পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হবে আগামী রবিবার অর্থাৎ ২৮ শে মার্চ, ১৪ ই চৈত্র ১৪২৭।

তার আগেরদিন অনুষ্ঠিত হবে নেড়া পোড়ার অনুষ্ঠান। যুগ যুগ ধরে সারা দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। নেড়া পোড়ার পর সেই ছাই শরীর এবং কপালে চুইয়ে নেবার রীতি রয়েছে অনেক জায়গায়। এইভাবে শুভ শক্তির কাছে অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করার রীতি চলে আসছে বহু বছর ধরে।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি বছর দোলযাত্রার পরের দিন পালন করা হয় হোলি উৎসব। হোলির দিন আগে ভক্ত প্রহ্লাদ এর উপর তার বাবা রাক্ষসরাজ হিরণ্যকশিপু প্রচন্ড পরিমাণে নির্যাতন করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে সরব হবার জন্যই এই ভাবে প্রতি দেশে পালন করা হয় নেড়া পোড়ার উৎসব। যেভাবে নরসিংহ রূপ নিয়ে হিরণ্যকশিপু কে হত্যা করেছিলেন ভগবান বিষ্ণু, ঠিক তেমনই প্রতিবছর অশুভ শক্তিকে আমরা এইভাবে হত্যা করার চেষ্টা করি।