কোন দল জিতবে এবারের নির্বাচনে! পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারছেন না রাজ্যবাসী

একুশের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি উত্তাল। বিশেষত বিজেপি এবং তৃণমূল বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। উভয় তরফই নিজেদের জয় সম্পর্কে নিশ্চিত। বিশেষত বিজেপি বাংলার মসনদ থেকে ঘাসফুল উপড়ে পদ্ম ফুল ফোটাতে মরিয়া। বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রচার, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং দলবদলের অস্ত্র হাতিয়ার করেই তারা তাদের লক্ষে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে রাজ্যের সাধারণ মানুষও রাজনৈতিক মহলের তরজা বিবেচনা করে ভোট যুদ্ধে কে জয়ী হবেন, কোন দল বাংলার ক্ষমতায় আসবে, সেই নিয়ে আপন আপন যুক্তিতে বেট ফেলতে চাইছেন। পাড়ায়-পাড়ায়, চায়ের দোকানের আড্ডায়, তাসের আড্ডায় চলছে নানান তরজা। বিজেপি না তৃণমূল, কার পাল্লা বেশি ভারী চলতি দফার বিধানসভা নির্বাচনে?

তার উপর আবার রয়েছে ওপিনিয়ন পোল! ওপেন ফোরামে ভোট পূর্ব সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। যেখানে ভোটের আগেই ভোটের আসন্ন ফলাফল সম্পর্কে আন্দাজ পাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু তা কি আদেও যুক্তিযুক্ত? মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ভোটের পরিপ্রেক্ষিতে কিভাবে স্থির করা সম্ভব কার পাল্লা বেশি ভারী? এখানে উঠে আসছে “ইনফর্মেশন কাসকেড” এর প্রসঙ্গ। অর্থাৎ, অন্যরা কি বলছে, কোন দলকে সমর্থন করছে তা বুঝে নিয়ে নিজেকে সেই পথে চালনা করার প্রবণতা।

এটাকে কিছুটা ভোট প্রভাবিত করার প্রবণতা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। পাড়ায়-পাড়ায়, দোকানে-দোকানে, বিভিন্ন আড্ডায় একদল নিশ্চিত গলায় বলছেন, “এবার বাংলায় বিজেপি আসতে চলেছে!” এতে যারা বিজেপি দলের প্রতি আদেও আগ্রহী নন, বিজেপির পক্ষে কোনো কালেই ছিলেন না অথচ রাজ্য সরকারের প্রতি যাদের কিছু ক্ষোভ রয়েছে, তারা অবশ্যই প্রভাবিত হবেন। বেশ কিছুজন আবার জয়ী দলের পক্ষে থাকার প্রচেষ্টায় বিজেপিকে ভোট দিয়ে ফেলবেন! এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এভাবেই সাইকলজিক্যালি ভোট প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা চলছে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।