এ’খা’নে এ’লে’ই ভো’গ নয় ত্যা’গে’র শি’ক্ষা দি’য়ে থা’কে’ন মহাদেব

মানুষ জন্ম লগ্ন থেকেই শরোরিপু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যা চিরকাল নিয়ন্ত্রণ করে তাকে। তবে কোন মানুষ যদি এই শরোরিপু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় তাহলে সে মোক্ষলাভ করতে পারে। এককথায় ইহজগতের সমস্ত মায়া কাটাতে পারলেই তবে মোক্ষলাভ সম্ভব। একমাত্র দেবদেবীকে পূজিত করলেই এই মোক্ষলাভ সম্ভব হয়। যুগে যুগে দেব-দেবীরা আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হয়ে আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ইহ জগতের সবকিছুই আপেক্ষিক, তাই মায়া ত্যাগ করতে পারলেই মোক্ষলাভ এবং দেবতার সান্নিধ্যে আসা সম্ভব।

এইরকম একটি শিক্ষা আমাদের দেয় অমরনাথ মন্দির। অমরনাথ মন্দিরের কথা বোঝায় জানে না এমন মানুষ নেই এই পৃথিবীতে। ভারতের উত্তরে জম্মু-কাশ্মীরে অবস্থিত একটি গুহার মধ্যে দীর্ঘদিন ধ্যানে নিমজ্জিত ছিলেন মহাদেব। চারিদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা। গ্রীষ্মকালীন খুব কম সময়ের জন্য এখানে মহাদেব কে দর্ষণ করতে যেতে পারে মানুষ। কিন্তু সেই রাস্তা খুবই সহজ নয়। শুধুমাত্র বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা থাকলে তবেই মানুষ সেখানে পৌঁছাতে পারে। তবে আপনি জানেন কি এই গুহার ভেতরে থাকা মহাদেব আপনাকে কি শিক্ষা দিয়েছেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

অমরনাথের গুহার ভেতরে জল আস্তে আস্তে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়তে থাকে। সেটি ধীরে ধীরে জমে গিয়ে শিবলিঙ্গের মত রূপ ধারণ করে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের ইচ্ছা থাকে যে, জীবনে একবার হলেও সেখানে গিয়ে দর্ষণ করবেন মহাদেবের। মানুষের সাধারণ বিশ্বাস একটি সাধারণ গুহা কে আরো বেশি পবিত্র করে তুলেছে।

বহুকাল আগে এই গুহাতে শিব কে দেখতে পান বৃন্দমুনি সেখা। তারপর থেকে দলে দলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যেতে শুরু করেন অমরনাথে। কথিত আছে শিব পার্বতী কে অমরত্ব শিক্ষা প্রদানের জন্য কৈলাস পর্বত ত্যাগ করে এই গুহায় নিয়ে আসেন শিব। পথে শিব তার যাবতীয় অধিকৃত সম্পদ ত্যাগ করে দেন। নন্দী কে পহেলগাঁওতে রেখে আসেন তিনি। তার মাথার শীর্ষে থাকা চন্দ্রকে ত্যাগ করেন চন্দন ওয়ারিতে, গলার সব খুলে তার শেষশেষনাগ হৃদে ত্যাগ করে দেন, পুত্র গণেশকে মহাগণেশ পর্বতে রেখে আসেন। এছাড়া বায়ু, অগ্নি, জল এবং মৃত্তিকাকে তিনি পঞ্জতর্ণীতে ত্যাগ করেন। এভাবেই যুগ যুগ ধরে তিনি আমাদের চরম ত্যাগের নিদর্শন দিয়ে চলেছেন।