‘পশ্চিমবঙ্গ যেন বেআইনি বোমা তৈরির কারখানা’, ফের তৃনমূল সরকারকে খোঁচা জগদীপ ধনখড়ের

সম্প্রতি কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে আল-কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের ৯ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী দল। যার মধ্যে ছয়জনকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রাজ্যপাল। রাজ্যের আইন শৃংখলার প্রতি প্রশ্ন তুলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় সম্প্রতি, একটি টুইট বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রীতিমতো কটাক্ষ করলেন।

এদিনের টুইট বার্তায় রাজ্যপাল লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ যেন বর্তমানে বেআইনি বোমা তৈরীর কারখানা হয়ে উঠছে। এর ফলে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, রাজ্য পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ রুখতে এবং ভোটের প্রচার চালিয়ে যেতেই ব্যস্ত। রাজ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার সময় নেই তাদের।

এদিন, পুলিশ প্রশাসনকে এক হাত নিয়ে রাজ্যপাল টুইটে লিখেছেন, বর্তমানে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত। রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিরা কোনভাবেই এর দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। রাজ্য পুলিশের ডিজিপির প্রতিও নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যপাল। ডিজিপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছেন ডিজিপি। করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন।

তবে রাজ্যপালের এই টুইট প্রসঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তার বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিরা যখন পশ্চিমবঙ্গের ঢুকছে, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ বিএসএফ তখনই কেন তাদের অনুপ্রবেশের বাধা দিচ্ছে না? রাজ্যপালের প্রতি তার পরামর্শ, রাজ্যের কাছে জবাবদিহি না চেয়ে আগে বরং কেন্দ্রের কাছে এই প্রশ্ন তুলুন রাজ্যপাল। উল্লেখ্য, জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোখা প্রসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা।