পরণে শাড়ি, হাতে শাঁখা, শঙ্খ বাজিয়ে রাশিয়ান বধূ বাড়িতে সরস্বতী পুজো করলেন, রইলো ছবি

অতিথিবৎসল ভারত বর্ষ! এই দেশ এমন দেশ যে দেশের অতিথিরা এখানকার সৌন্দর্য্যে, সংস্কৃতিতে মুগ্ধ হয়ে নিজের দেশ ভুলে চিরতরের জন্য ভারতবাসী হিসেবে ভারতেই বিলীন হয়ে যেতে দ্বিধাবোধ করেন না। যেমনটা ঘটেছে রাশিয়ার একাতেরিনার সাথে। রাশিয়ার কিরোভে শহরের বাসিন্দা একাতেরিনা আজ থেকে প্রায় আট বছর পূর্বে এক ভারতীয় যুবকের প্রেমের বাঁধনে আবদ্ধ হয়ে নিজের দেশ ছেড়েছিলেন।

আট বছরেই তিনি ভারতীয় বাঙালি ঘরের একজন পাকা গৃহিণী হয়ে উঠেছেন। বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ, রীতিনীতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠেছেন একাতেরিনা দাস। তার একটি পাঁচ বছরের পুত্র সন্তানও রয়েছে। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে গতকাল হাতে-খড়ি হলো তার। সেই অনুষ্ঠানের সকল আয়োজন একা হাতে সামলিয়েছেন একাতেরিনা!

শাড়ি পরে, শঙ্খ বাজিয়ে সরস্বতী পুজো সারলেন রাশিয়ান গৃহবধূ, দেখুন ছবি

বাঙালি গৃহবধূ একাতেরিনা অত্যন্ত নিষ্ঠা ভরে বাঙালি রীতিনীতি পালন করেন। এ বিষয়ে তার শিক্ষক হয়ে উঠেছেন তার শাশুড়ি-মা। পুত্রবধূকে হাতে ধরে সকল রীতিনীতি শিখিয়েছেন শাশুড়ি-মা। একাতেরিনা জানিয়েছেন, বাঙালি রীতি-নীতি, আচার অনুষ্ঠান পালন করতে তার খুব ভালো লাগে। তিনি বাংলা বলতেও পারেন।

ছেলের হাতেখড়ির জন্য এদিন সকাল সকাল সরস্বতী পুজোর আয়োজনে মেতে উঠেছিলেন একাতেরিনা। লাল ছাপা হলুদ শাড়ি পড়ে, ছেলেকে পাশে বসিয়ে ভক্তিভরে বাগদেবীকে অঞ্জলি প্রদান করেছেন তিনি। এরপর পুরোহিত মশাইয়ের তত্ত্বাবধানে তার ছেলে দত্তাত্রেয়ের হাতে খড়ি হলো। একাতেরিনা জানিয়েছেন, তিনি বাংলা বলতে পারলেও বাংলা লিখতে পারেন না। তবে তিনি তার শাশুড়ি মার থেকে বাঙালি সকল রীতিনীতি শিখে নিতে চান, যাতে পরবর্তীকালে তিনি একাই সমস্তটা সামলাতে পারেন।