ভোট দিতেই আঙুলে লাগিয়ে দেওয়া হয়, সহজে ওঠেও না দাগ! জানুন কি দিয়ে তৈরি হয় এই কালি

ইতিমধ্যেই অনেক রাজ্যে সম্পূর্ণ হয়ে গেছে ভোটের কর্মসূচি। আবার কিছু কিছু রাজ্যে ভোট পর্ব চলছে। তবে আজ ভোট নিয়ে কোন কথা বলবো না আপনাকে। আজকে কথা হবে ভোটের কাজে ব্যবহৃত কালি সম্পর্কে। এই কালী যে কোন ভাবেই হাত থেকে মোছা যায় না সেটা আমরা সকলেই জানি। প্রত্যেকের জীবনে কোনো না কোনো সময় ভোট দেবার সময় আসে এবং সেই সময় তাদের বা হাতে লাগিয়ে দেওয়া হয় কালী।

এই কালি কিন্তু সাবান দিয়ে ঘষলে ওঠে না আবার রিমুভার দিয়ে মুচলেও মুছা যায় না। আবার খোলা বাজারে পাওয়া যায় না এই সমস্ত কালি। ভারতের বিশেষ একটি সংস্থা দ্বারা এই কালি তৈরি করা। নির্বাচন কমিশন, ভারতীয় আইন মন্ত্রক, ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি অফ ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল রিসার্চ ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের চুক্তি অনুযায়ী “মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড বার্নিশ লিমিটেড’ সংস্থা ১৯৬২ সালে ভোটের জন্য ব্যবহৃত এই বিশেষ কালি তৈরির বরাত পায়। ভারত ছাড়াও নেপাল, আমেরিকা, পাকিস্তান, ডেনমার্ক, তুরস্কের মতো ২৫টি দেশের জন্য ভোটের কালি বানায় এই সংস্থাটি।

এই কালি তৈরি করার জন্য মূল উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট এবং দিস্ট্রিল ওয়াটার। এই কালি দ্রবণে সিলভার নাইট্রেট থাকার কারণে আমাদের সংস্পর্শে এসে ত্বকে উপস্থিত প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নাছোড়বান্দা ফিরে যাই আমাদের শরীরের উপরে। এরপর সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মি সংস্পর্শে এসে এই দাগ আরো বেশী দীর্ঘস্থায়ী হয় পরে।

ভোটের কালি তুলতে গেলে সেই জায়গায় টুথপেস্ট লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষতে হবে। এছাড়া দূর্বাঘাস তুলে তার রস লাগালে ও এই কালি উঠে যায়। দেশলাইয়ের কাঠি জলে ভিজিয়ে তার বারুদ টুকু কালির উপরে ১০৮ বার ঘষলে ভোটের কালি শরীর থেকে উঠে যায়। এছাড়া স্বচ্ছ নেলপালিশ লাগিয়ে তারপর নেলপালিশ রিমুভার দিয়ে ঘষলে কালি উঠে যাবে।

১৯৬২ সালে ভারতের তৃতীয় নির্বাচনের সময় এই কালি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সময় তর্জনীর নখ এবং ত্বকে আড়াআড়ি ভাবে লাগানো হতো এই কালি। এরপর ২০০৬ সালে নির্বাচন কমিশন তরফ থেকে আরোপিত নিয়ম অনুযায়ী ভোটারের বাম হাতের তর্জনী মাঝখান থেকে আঙুলের গাঁট পর্যন্ত এই কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়।