ভ্যা’ক’সি’ন নেবার ৯ দিনের মাথায় মারা গেলেন স্বেচ্ছাসেবক, টিকা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ভোপালে

দেশবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কো-ভ্যাকসিন এবং কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দুটিকে ব্যবহারের অনুমোদন প্রদান করেছে কেন্দ্র। গণহারে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে প্রথমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ড্রাই রান চালানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রত্যেক জেলার স্বেচ্ছাসেবকেরা এই পর্বে অংশগ্রহণ করছেন। তারই মধ্যে এবার ভোপাল থেকে মর্মান্তিক খবর ভেসে এলো।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালের ৪২ বছর বয়সী এক স্বেচ্ছাসেবী কোভ্যাক্সিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যোগ দান করার পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। গত ১২ই ডিসেম্বর ভোপালের পিপপল’স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। এরপর ২১শে ডিসেম্বর আচমকাই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ঠিক কি কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে, সেসম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তার আপাতত ওই ব্যক্তির ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষা করছেন।

এদিকে কো-ভ্যাকসিনের টিকা নেওয়ার পরেই ওই স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বভাবতই ভোপালের বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত স্বেচ্ছাসেবকের নাম দীপক মারাভি। মধ্যপ্রদেশ মেডিকো লিগ্যাল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডাক্তার অশোক শর্মা অবশ্য জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির পোস্টমর্টেম রিপোর্টে তার শরীরে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। অতএব ঠিক কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে ধন্দ্বে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনা প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া ও ভারত বায়োটেকের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কারণ, ওই বেসরকারি হাসপাতালে করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের স্পন্সর ছিল এই দুই সংস্থা। ওই হাসপাতালের ভাইস-চ্যান্সেলর ডাক্তার রাজেশ কাপুর জানিয়েছেন, প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবকের সম্মতিক্রমেই তাদের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল। সমস্ত প্রোটোকল মেনেই ট্রায়াল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তা সত্ত্বেও কেন এমনটা ঘটলো, সে সম্পর্কে খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।