বিশাখাপত্তনম গ্যাস লিক কান্ড, কি প্রকৃতির এই স্টাইরিন গ্যাস?, জেনে নিন

আজ সকালেই ঘটে গেছে আরেক দূর্ঘটনা, দেশে এমনিতেই চলছে করোনা আবহ। আর তার মধ্যেই আজ সকালে ফের আরেক খারাপ সংবাদ। যা মানব জাতির জন্য আরেকটি কালো দিন। কারণ আজ সকালেই বিশাখাপত্তনমের গ্যাস কারখানায় হয়েছে গ্যাস লিক। বিষ্কাত গ্যাস স্টাইরিন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মতো মারা গেছে। কয়েকটি গ্রামের মানুষের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তারা সবাই এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ১৯৮৪ সালের ভোপালের গ্যাস দূর্ঘটনার কথা সবার মনে আছে। কারণ সেটাও ছিল দেশের জন্য একটা কালো দিন। আর আজ বিশাখাপত্তনমের এই দুর্ঘটনা ফের সেটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

এই গ্যাসের প্রকোপ এতোটাই ছিল যে আশেপাশের মানুষ তাও ১৫ কিমির মধ্যে যারা যারা ছিল তারা রাস্তার মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পরে গিয়েছিল, আর সেখানেই ৬ জনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি শিশুও ছিল। এবার সবার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এই স্টাইরিন গ্যাসটি আসলে কি? এই গ্যাসের কাজ সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া যাক। এই গ্যাসের দ্বারা রাবার, ফাইবার, প্লাস্টিক, ল্যাটেক্স এই সব তৈরী করা হয়। আর এটার রুপ দাহ্য তরল পদার্থের মতো।

এবার এর অবস্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। আসলে এই যে স্টাইরিন থাকে অনেক জায়গায়, বিশেষ করে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে থাকে স্টাইরিন, সবজি, ফল, গাড়ির ধোয়া ও সিগারেটের ধোয়া এই সবের মধ্যে থাকে স্টাইরিন।আর এই সব জানিয়েছে মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন পরিচালিত ওয়েবসাইট টক্স টাউন। এখন এই বিষ্কাত গ্যাস যখন বাতাসে মিশে যাবে তখন মানুষের স্বাভাবিক ভাবেই অনেকটা কষ্ট হবে। আর এমন কষ্ট হবে যার ফলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে, যার উদাহরণ আজ সকালেই পাওয়া গেছে। স্নায়ুতন্ত্রে এর একটা বিশাল প্রভাব পরবে। চোখে জ্বালা, শ্বাসকষ্ট, মিউকাস মেম্ব্রেন ও খাদ্য তন্ত্রেও একটা বিশাল প্রভাব পরতে চলেছে। মার্কিন সংস্থা এনভায়ার্নমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সি আরও জানিয়েছেন যে, এই গ্যাসের মাধ্যমে মানুষের আরও বড় কিছু ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, যা ক্যানসার ডিপ্রেশনের মতোই।

এবার এর ফলে মানুষের দেহে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যার মধ্যে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ব্যাথা, মনোযোগের অভাব ও শ্রবণ ক্ষমতা লোপ পাওয়া। এর থেকেও বড় কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেটা লিভার, কিডনি, চোখ , স্নায়ু তন্ত্রের ওপরে ।এখন প্রশ্ন বিশাখাপত্তনমের অবস্থা কেমন আছে? জানা যাচ্ছে লক বন্ধ করা গেছে, কিন্তু এন ডি আর এফ খোজ চালাচ্ছে, ১৫ কিমির মধ্যে রয়েছে ৫ টি গ্রাম, আর সেই গ্রাম গুলোর মধ্যে মানুষ এখনও আটকে আছে কিনা সেটাই দেখার।

এ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। তবে ভালো খবর ৫ কিমির মধ্যের জায়গা গুলোতেই প্রভাব পরেছে বেশই, কারণ আরও কিছু দূরে আছে আরও অনেক গ্রাম, তাদের পর্যন্ত ছড়ালে চিন্তা আরও বাড়ত।এখন সবার মনে প্রশ্ন জাগছে কেনো গ্যাস লিক হলও? তাহলে কি ঠিকমতো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি? আসলে এলজি পলিমার্সের তরফ থেকে জানা গেছে হয়ত ত্যাঙ্কের ভেতরে আবদ্ধতা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই কান্ড ঘটেছে, তবে এর তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে যাবে, গ্যাস লিক আর হচ্ছে না, তবে এখনই না ঘন্টা ৪-৫ এর পরে জানিয়ে দেওয়া হবে সিগন্যাল ক্লিয়ার।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন

/p>