উত্তরপ্রদেশে ঢুকতেই মাঝরাস্তায় বাঁধা পুলিশের, হেঁটেই হাথরাসের পথে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

বৃহস্পতিবার, হাথরাস গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে উত্তরপ্রদেশে পুরোদস্তুর রাজনীতি চলল। হাথরাসের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য উত্তরপ্রদেশে পৌঁছান কংগ্রেসের দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং উত্তর প্রদেশের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তবে বিরোধীরা হাথরাসে পৌঁছে যাতে কোনভাবেই উত্তেজনা না ছড়াতে পারে তার জন্য সচেষ্ট হয় উত্তর প্রদেশ সরকার।

এদিন গ্রেটার নয়ডার কাছেই রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার কনভয় আটকে দেয় উত্তর প্রদেশের পুলিশ। তবে তাতে দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি তাদের। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বদ্ধপরিকর তারা। গ্রেটার নয়ডা থেকে হাথরাসের দূরত্ব প্রায় ১৪২ কিলোমিটার। এতটা পথ হেঁটেই পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এদিকে রাহুল প্রিয়াঙ্কা পৌঁছানোর আগেই তড়িঘড়ি হাথরাসকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন।

শুধু তাই নয়, উত্তেজনা প্রশমনের যুক্তি দেখিয়ে ইতিমধ্যেই হাথরাসে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। হাথরাসের সীমানাও সিল করে দেওয়া হয়েছে। তবুও, দমবার পাত্র নয় কংগ্রেস। রাহুল, প্রিয়াঙ্কা এবং রণদীপ সুরজেওয়ালার সঙ্গে আছে অসংখ্য কংগ্রেস সমর্থক এদিন পদব্রজে হাথরাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এদিন হাঁটতে হাঁটতে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রিয়াঙ্কা বলেন, উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১১ জন মহিলা নির্যাতনের শিকার হোন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে এর দায় স্বীকার করতেই হবে।

প্রিয়াঙ্কার দাবি, মহিলাদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিক রাজ্য সরকার। দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তিনি আরো বলেছেন, গত বছর এই সময় উন্নাওয়ের নির্যাতিতার জন্য লড়াই চালাচ্ছিল কংগ্রেস। এক বছর পরেও উত্তরপ্রদেশের চিত্রটা বদলালো না। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, ওদের দাবি ওরা নাকি হিন্দু ধর্মের রক্ষক! কোন ধর্ম গ্রন্থে লেখা রয়েছে বাবা তার মেয়ের সৎকার করতে পারবেন না?