ক’রোনার আবহে অজানা রোগের হানা, দিশেহারা ওড়িশার জনজাতি, ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

মহামারীর মধ্যেই উড়িষ্যার মাওবাদী অধ্যুষিত মালকানগিরি জেলায় জল বাহিত একটি অজানা রোগের শিকার হচ্ছে স্থানীয় জনজাতি র সদস্যরা। ইতিমধ্যেই গত তিন মাসে মৃত্যু হয়েছে ১২ জন বাসিন্দার। মালকানগিরি জেলা শাসক মনীষী প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, মেডিকেল টিমের সদস্যরা ইতিমধ্যেই তিনি ব্লকের জাতিদের গ্রামে গিয়ে তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও সেখানকার পানীয় জলের নমুনা জোগাড় করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত অশোক এর সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, অজানা এই রোগের জন্য তারা খুবই বিহ্বল অবস্থায় রয়েছেন।

রোগের প্রাথমিক উপসর্গ দ্রুত শরীর ফুলে যাওয়া। এরপর আস্তে আস্তে খাবার ইচ্ছা লোপ পেতে থাকে। ফলে অপুষ্টির কারণে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে যায় রোগীর শরীর। অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হচ্ছে রোগীর।এই প্রসঙ্গে মালকানগিরির প্রধান মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক পিকে নন্দ জানিয়েছেন যে,ইতিমধ্যেই আক্রান্ত গ্রামবাসীদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, অসুস্থদের মধ্যে অনেকেই রক্তাল্পতায় ভুগছেন, আবার অনেকে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ইউরিয়া মেশানো দেশী মদ পান করার ফলে কয়েকজনের পেট এবং পা ফুলে যাচ্ছে।

পুষ্টি বিষয়ক বসন্ত কুমার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ অপুষ্টির কারণে মৃত্যু হয়েছে মালকানগিরি জনজাতিদের। চতুর্থ জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অঞ্চলের অপুষ্টির হার রাজ্য থেকে অনেকটাই কম। অসুস্থতা এবং অকাল মৃত্যু ঠেকানোর জন্য প্রয়োজন ভিটামিন এবং খনিজ যুক্ত পরিমিত আহার। দীর্ঘ লকডাউন এর ফলে সেই খামতি অনেকটাই বেড়ে গেছে তা বলাই বাহুল্য।এরপর আবার ম্যালেরিয়া র প্রকোপ জনজাতি দের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও খানিকটা কমিয়ে দিয়েছে।

গত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই অঞ্চলের দুই ধরনের এনসেফ্যালাইটিসে মারা যায় একশরও বেশি শিশু। সকলেই তারা অপুষ্টিতে ভুগছিল।এছাড়া ২০১৪ সালের বার্ষিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা রিপোর্টে জানা গিয়েছিল যে ওই অঞ্চলের ১০ জনের মধ্যে সাত জন শিশু অপুষ্টিতে ভোগে।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন