অপ্রত্যাশিত, ভোটের কাজ পেতে জেলাশাসকের দপ্তরে হাজির শিক্ষিকা

একুশের নির্বাচন শিয়রে। প্রতিবার ভোটের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব পান সরকারি চাকুরিরতরা। এদের মধ্যে অনেকের মধ্যেই ভোটের দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখা দেয়। অনেকেই ভোট কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন না করার বাহানা খুঁজে বেড়ান। তবে ভোটের দায়িত্ব নিতে খোদ জেলাশাসকের কাছে পৌঁছে গেলেন এক শিক্ষিকা। বেনজির এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের কর্ণজোড়ায়।

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের মিলন পাড়ায় যোগেন্দ্র চন্দ্র মল্লিক অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ওই শিক্ষিকা মধুমিতা রায় অধিকারী। হেমতাবাদ বিধানসভার অন্তর্গত ভাটোলের বাসিন্দা তিনি। সূত্রের খবর, ২০০৯ সালে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন মধুমিতা। এরপর বহু ঝড়ঝাপটা সামলে রোগের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

তবে ২০১৯ সালে তার জীবনে সবথেকে বড় বিপর্যয় ঘটে যায়। ওই বছরেরই অক্টোবর মাসে তার একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয়। তার একমাত্র সন্তান কলকাতা আশুতোষ কলেজে বিজ্ঞান শাখার ছাত্র ছিল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই মৃত্যু হয়েছে তার। সেই শোক ভুলে থাকার জন্য নিজেকে বেশি করে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে চান মধুমিতা। তাই ভোটের দায়িত্ব নিতে নিজে থেকেই জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

এদিন অবশ্য কর্ণজোড়ার জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা জেলাশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। তাই তার বদলে অতিরিক্ত জেলা শাসক অলংকৃতা পান্ডের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। প্রথম পর্বে ভোটের দায়িত্ব সংক্রান্ত চিঠি পাননি মধুমিতা। তবে আধিকারিকরা তাকে আশ্বস্ত করেছেন, শীঘ্রই দ্বিতীয় দফায় তার কাছে ভোটের ডিউটির চিঠি যাবে।