বিলাসিতাপূর্ণ জীবন কাটানোর বড়ই ইচ্ছে, নিজেই নিজেকে অপহরণের ছক বেকার যুবকের

এ যেন কোন সিনেমার স্ক্রিপ্ট। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করতেন।কিন্তু সম্প্রতি লকডাউন থাকার কারণে চাকরি হারাতে হয়েছিল তাকে। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত নিমতার এই যুবক কিছুতেই সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে পারছিল না। ঠিক সেই কারণেই অবশেষে একটি অপহরণের গল্প তৈরি করে বাড়ি থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে অভিযুক্ত।

এমন একটি অভিনব ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার ওলাইচন্ডী তলায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম রনিত দে। জানা গিয়েছে, একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার। লকডাউন হওয়ার আগে পর্যন্ত বিলাসবহুল জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই লকডাউনে চাকরি চলে যায় তার। এতদিনের বিলাসবহুল জীবন যাত্রায় বাধা পড়ে যায়।সাদামাটা জীবনে চলতে না পেরে অবশেষে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীর বাবার থেকে টাকা হাতানোর একটি অভিনব ছক কষে রনিত।

বাড়িতে ফোন করে নিজের অপহরণের কথা জানিয়ে মুক্তিপণ দাবী করতে থাকে বাবার থেকে। কখনো ৫ লক্ষ টাকা, কখনো আবার দু লক্ষ টাকা।এদিকে একমাত্র ছেলের অপহরণের কথা শুনে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় দে পরিবার। তারা অবিলম্বে নিমতা থানা র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যে নম্বর থেকে মুক্তিপণ চেয়ে দে বাড়ির কাছে ফোন করা হয়েছিল, সেই নম্বরটি থানা থেকে ট্র্যাক করা হয়। ট্র্যাক করে জানা যায় যে ফোনটি রয়েছে রাজারহাটে। এরপর সেই নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে রাজারহাটের একটি হোটেলে একাধিক নারীর সঙ্গে পাওয়া যায় রনিতকে।

সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ নিয়ে যায় তার পরিবারের কাছে। পরিবারের সদস্যরা রীতিমতো হতবাক হয়ে যায় ছেলেদের কীর্তি দেখে। তারা কি করবে বুঝে পায়না।তাদের ঘরের ছেলে যে এইভাবে তাদেরকে সমস্যায় ফেলে দেবে এ যেন তাদের কল্পনার অতীত।টাকার জন্য মানুষ যে সব কিছুই করতে পারে এই ঘটনা থেকে তা আবারো প্রমাণ হয়ে গেল।