দুর্গাপুজোর মধ্যেই UGC-NET পরীক্ষা, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ অভিষেকের

শনিবার কেন্দ্রীয় তরফ থেকে ইউজিসি নেট পরীক্ষার সময় সারণি পেশ করা হয়েছে। পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল সাংসদেরা প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন। কারণ, ইউজিসির প্রকাশিত সময় সারণি অনুযায়ী দুর্গা ষষ্ঠী, দুর্গা সপ্তমী এবং দূর্গাষ্টমীর দিন নেট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। বাঙালি সবথেকে বড় পার্বণের দিনে কিভাবে ইউজিসি নেট পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে কেন্দ্র, সে সম্বন্ধে প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূল সাংসদেরা।

নির্দেশিকা অনুসারে আগামী ২৪ শে সেপ্টেম্বর থেকে ৫ই নভেম্বর পর্যন্ত ইউজিসি নেট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার নেট পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষার সুচী পেশ করেছেন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। সেখান থেকেই জানা গেল দুর্গাপুজোর তিনদিন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। এরপর থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে তৃণমূল। বাংলার শাসক দলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে টুইট বার্তায় লিখেছেন, বাংলা সংস্কৃতিকে অপমান করছেন প্রধানমন্ত্রী।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, বাংলায় পরীক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিকে নির্লজ্জ ভাবে অপমান করছে কেন্দ্রীয় সরকার। দুর্গা ষষ্ঠী, সপ্তমী এবং অষ্টমীর দিন পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করে কার্যত হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর পরিস্থিতির মধ্যেই এবার বাঙালি তাদের সবথেকে বড় পার্বণ দুর্গোৎসব নিয়ে মেতে উঠবে। এবছর পঞ্জিকা অনুসারে ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর পুজোর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে পুজোর দিনে পরীক্ষার আয়োজন করা নিয়ে কেন্দ্রকে দোষারোপ করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল। দুর্গা পুজোর দিনে পরীক্ষার দিন নির্ধারণের বিষয়টি বিজেপির নজরে এসেছে। শীঘ্রই তারা কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানাবেন। উল্লেখ্য, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা সত্ত্বেও করোনার আবহে দেশজুড়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি এনট্রান্স টেস্টের আয়োজন করেছিল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৭৫ শতাংশ পরীক্ষার্থীই পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি।