ক্লাসে বসা নিয়ে দুই বন্ধুর বচসা, গুলিতে ঝাঁঝরা হলো সহপাঠির শরীর, শিক্ষাঙ্গন ভিজে গেলো রক্তে

কিছু কিছু সমস্যা এমন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে তা সকলের কল্পনার অতীত হয়ে যায়। স্কুলে বন্ধুদের মধ্যে মান অভিমান চলতেই থাকে। তা হয়তো খুব বেশি কথা বলা বন্ধ পর্যন্ত হয়। কিন্তু পড়ুয়াদের মধ্যে কথাকাটাকাটি একটি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করলে উত্তর প্রদেশের শিখরপুর এর সুরজ ভন সরস্বতী ইন্টার কলেজ নামে একটি স্কুলে। সেখানে বসার জায়গা থেকে প্রথমে দুজনের মধ্যে বচসা বাধে।সেটা আস্তে আস্তে বাড়তে বাড়তে এমন একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হয়ে যায়, একে অপরের ওপর আক্রমণ করে বসে তারা।

উত্তরপ্রদেশের এই স্কুলের দুই পরিবারের মধ্যে জায়গা নিয়ে এমন বচসা বাধে যে কিছু ঘণ্টার মধ্যেই ক্লাসের মধ্যে গুলি করে সহপাঠী কিশোরকে খুন করে ফেললো অন্য একটি কিশোর। এমন একটি কান্দে স্বাভাবিকভাবেই হতভম্ব হয়ে যায় সকলে। ক্লাসের অন্যান্য পড়ুয়ারা জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার দুই সহপাঠীর মধ্যে বচসা বাধে বেঞ্চে বসা নিয়ে। ধীরে ধীরে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। একে অপরকে মারতে শুরু করে তারা। কিন্তু সেটা এক সময় থেমে যায়। সকলেই এটি স্বাভাবিক একটি ঝগড়ার মতোই দেখে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত কিশোর স্কুলে নিয়ে আসে একটি আগ্নেয়াস্ত্র। প্রথমে দুটো ক্লাস হয়ে যাবার পর হঠাৎ করে ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বার করে সহপাঠীকে আক্রমণ করে। পরপর দুটি গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় সহপাঠী র শরীর। রক্তে ভেসে যায় গোটা ক্লাসরুম।

এরকম একটি কাণ্ডে হতবাক সকলে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রভাত গুপ্তা, আচমকা গুলির শব্দে হকচকিয়ে জান। যখন অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে, তখন কিছু শিক্ষক তাকে পালাতে দেন না। জোর করে তাকে ধরে রাখা হয়। এরপর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাকে।

অন্যদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আক্রান্ত ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ রক্ষা হয়নি। এই প্রসঙ্গে বুলন্দ শহরের এসএসপি সন্তোষ কুমার সেন জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত নাবালককে আটক করে রাখা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। জানা গেছে অভিযুক্তর কাকা পেশায় সেনা কর্মী। বড়দিনের ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। তার থেকেই লুকিয়ে সার্ভিস রিভলভার নিয়ে এসে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে অভিযুক্ত নাবালক।