দলে রাখার চেষ্টা, অভিষেকের অফিসে সাংসদ শতাব্দী

আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলবদলের মরসুমে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক তরজার ট্রেন্ডে রয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দি রায়। সম্প্রতি তৃণমূলের বিরুদ্ধে “বেসুরো” গাইছেন শতাব্দি। বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই যারা ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলের আশ্রয় বেছে নিচ্ছেন তারা প্রত্যেকেই দলত্যাগের পূর্বে দলের বিরুদ্ধে “বেসুরো” গাইছিলেন। কাজেই শতাব্দিও কালক্রমে গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকবেন, রাজনৈতিক মহল তাই অনুমান করছে।

দলের বিরুদ্ধে শতাব্দির অভিযোগ, মানুষ ভালোবেসে ভোট দিয়ে তাকে জিতিয়েছেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তিনি সেই মানুষগুলির কাছেই পৌঁছাতে পারেননি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, দলীয় কর্মীরাই তাকে বাধা দিয়েছেন। তাকে কোনো দলীয় কর্মসূচিতেই অংশ নিতে দেওয়া হতো না। তিনি আরও বলেছেন, এই নিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও তিনি কোনো অভিযোগ জানাতে পারেননি।

শতাব্দির বক্তব্য, নিজের অভিযোগ দলনেত্রীকে জানিয়ে কোনো লাভ নেই বলেই মনে করেছেন তিনি। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্যদ থেকেও ইতিপূর্বে দুইবার ইস্তফা দিয়েছেন তিনি, কিন্তু তা গ্রাহ্য করা হয়নি। এদিকে আগামীকাল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তার দেখা করার প্রসঙ্গ নিয়ে এখনই কিছু জানাতে ইচ্ছুক নন শতাব্দি রায়। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, “পরিচিত মানুষ”দের সঙ্গে দেখা হতেই পারে। তাই বলে এটিকে “বৈঠক” ভেবে নেওয়াটা ভুল হবে।

এদিকে তৃণমূল নেত্রী “বেসুরে” গাওয়াতে নড়েচড়ে বসেছে দল। দলের বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায় তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আবার এদিন বিকেলে সরাসরি তার বাড়িতে পৌঁছে যান। সেখানে তাদের এক ঘণ্টার বৈঠক হয়। এরপর আবার কুণাল ঘোষের সঙ্গেই যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরেও যান শতাব্দি রায়। তবে শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্ত কি হবে, তা জানতে হলে আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।