রবি ঠাকুরের আদর্শ মানলে “বহিরাগত” শব্দ ব্যবহার করতো না তৃণমূল: বিমান বসু

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতি রীতিমতো উত্তাল। বিশেষত বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই বিজেপির প্রতি তৃণমূলের “বহিরাগত” তকমা প্রদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ জল ঘোলা হয়েছে। এতদিনে এই নিয়ে মুখ খুললেন বামফ্রন্ট সভাপতি বিমান বসু। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপি, উভয় বিরোধী দলকেই দুষলেন তিনি।

গত শনিবার বারাসাতে একটি ন্যায্য মূল্যের বাজারের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বিমান বসু। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়েই তৃণমূলকে “নীতি-আদর্শহীন দল” বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বিমান বসুর মন্তব্য, তৃণমূল দলের কোনো নীতি এবং আদর্শ নেই। যে কারণে এই দলে এখন ভাঙ্গন ধরেছে। তিনি আরও বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ শুধু মুখে আওড়িয়ে কর্ম ক্ষেত্রে কার্যত তার উল্টোটা করে কোনো লাভ হবে না।

“বহিরাগত” প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষকে মহামানবের মিলনক্ষেত্র বলে বর্ণনা করে গিয়েছেন। কবি গুরুর মতে, ভারতবর্ষে কেউই বহিরাগত নন। এ প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তি, বাঙালিরাও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। তারাও কি সেখানে বহিরাগত হয়ে যাবেন? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অপরপক্ষে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসম্মান প্রদর্শনের বিরোধিতা করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমো বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে “চাড্ডা-নাড্ডা-ভাড্ডা” বলে মন্তব্য করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বামফ্রন্ট সভাপতির বক্তব্য, নাড্ডা একটি অতি পরিশ্রমী জাতি। তাই এভাবে অসম্মান প্রদর্শন করা কখনোই উচিত নয়। অপরপক্ষে বিজেপিকেও ছেড়ে কথা বলেননি তিনি। বিজেপিকে দেশের পক্ষে রীতিমতো “বিপদ” বলেই মনে করেছেন তিনি। তার বক্তব্য অনুসারে, বিজেপি মনুবাদে বিশ্বাসী। এখন যারা বিজেপিকে সমর্থন করছেন, তারা না বুঝেই বিজেপির সমর্থন করছেন। তিনি আরো বলেন, বিজেপি এবং আরএসএস প্রধানত মানুষের মধ্যে বিভেদ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।