লজ্জা দূরে সরিয়ে রেখে পরণের শাড়ি ছুড়ে দিয়ে দুই যুবককে বাঁচালেন তিন মহিলা, পেলেন অনন্য সন্মান

হঠাৎ করে সামনে যদি কোন বিপদ দেখেন, তখন কি আর সামাজিক লাজ লজ্জার কথা মাথায় থাকে?অনেক সময় এমনও হয়েছে যে আগুন লেগে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পরনের পরিধান টা ছুঁড়ে ফেলতে হয় শরীর থেকে। কিছুটা এমনই ঘটনা ঘটেছে তামিলনাড়ুর কোট্টারাই বাঁধ সংলগ্ন কোট্টারাই গ্রামে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ ই আগস্ট। ঐদিন পাশের গ্রাম থেকে এক ডজন ছেলে এসেছিল ক্রিকেট খেলতে। ক্রিকেট খেলার পর তারা সকলেই কোট্টারাই বাঁধে স্নান করতে গিয়েছিল।তবে সেখানে যে তাদের জন্য বিপদ লুকিয়ে ছিল তা তারা ঘুনাক্ষরেও টের পাইনি।

গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে মারুডাইয়ারু নদীর জলের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বাঁধের জল সীমা ১৫ ফুট থেকে বের হয়েছিল ২০ ফুট।ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামের তিন মহিলা সেন্থমিজ সেলভি, মুথমাল এবং অনন্তাবল্লি।ওই যুবকরা তাদের জিজ্ঞাসা করেছিল যে বাঁধের জলে স্নান করা যাবে কিনা।তার উত্তরে মহিলারা জানিয়েছিলেন যে, জলের গভীরতা এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে, তাই স্নান না করাই উচিত। তাদের কথা শুনতে শুনতেই হঠাৎ চারজন যুবক পড়ে গিয়েছিল বাঁধের জলে।

ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে সেন্থমিজ, মুথমাল এবং অনন্তাবল্লি তাদের পরনে শাড়ি খুলে এগিয়ে গিয়েছিলেন যুবকদের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের শাড়ি ছুড়ে দিয়েছিলেন ওই তিন যুবকের কাছে সেই শাড়ির একপ্রান্ত ধরে উঠে আসতে পেরেছিল কার্তিক এবং সেন্টিলভেলান নামে দুটি যুবক। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আর দুই যুবক তলিয়ে যায় জলে। তার মধ্যে ছিল ১৭ বছর বয়সী পবিথ্রান এবং ২৫ বছরের রঞ্জিত। এরমধ্যে সবেমাত্র ডাক্তারি পড়া শেষ করে রঞ্জিত ট্রেনিং নিয়েছিল।

খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গিয়ে পেরাম্বুলার জেলায় সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।মৃত যুবকের বাড়ির সকলে খবরটি শুনে ভেঙে পড়েন। তবে যেদিন মহিলা উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছিলেন, তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই প্রশংসিত হচ্ছেন। সাময়িকভাবে লাজ লজ্জা ভুলে গিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বলেই অন্তত দুজন যুবকের প্রাণ বেঁচে গেল। কিন্তু অন্য দুই যুবকের কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না সেন্থমিজ সেলভি, মুথমাল এবং অনন্তাবল্লি।চোখের সামনে চলে যেতে হল দুই যুবককে, তারা সামনে থেকেও কিছু করতে পারলেন না। এই আক্ষেপ তাদের হয়তো সারাজীবনেও যাবে না।