পাকিস্তানে চরম সঙ্কটে সংখ্যালঘুরা, প্রতি বছর হাজার হাজার নাবালিকাকে জোর করে ধর্মান্তরিতকরন

পাকিস্থানে চরম দুর্দশার সম্মুখীন হচ্ছেন সে দেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। বিশেষত নাবালিকা কিশোরীরা মুসলীম ধর্মাবলম্বিদের মৌলবাদী মনোভাবের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিশোরীদের জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বী পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিতকরন করা হচ্ছে এই প্রদেশে! অথচ প্রশাসন নীরব। রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবছর ওই প্রদেশের প্রায় হাজারেরও বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কিশোরী এই অত্যাচারের সম্মুখীন হচ্ছেন।

হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত পরিবারের কিশোরীদেরই মূলত টার্গেট করে এই মৌলবাদী সম্প্রদায়। পরিস্থিতি এমনই যে স্কুলে পড়াকালীনই কিশোরীদের টার্গেট করা হয়। তারপরেই প্রয়োজনে বন্দুক দেখিয়ে অসহায় নাবালিকাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে জোর করে বিয়ে দিয়ে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পুলিশ কিংবা প্রশাসন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। এই ধরনের ঘটনা যেন পাকিস্তানে একেবারেই জলভাত!

উল্লেখ্য ইতিপূর্বে বহুবার এই ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। এই নিয়ে বিশ্বের দরবারে অস্বস্তিতেও পড়তে হয় ইমরান খানের সরকারকে। তবুও প্রশাসন নীরব। বিয়ের নামে ধর্মান্তরিতকরণের ঘটনায় কার্যত জেরবার সেই প্রদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে নাবালিকা কিশোরীদের। ১৩ বছরের কিশোরী হোক কিংবা প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা, বাদ যাচ্ছেন না কেউই।

তবে পাকিস্তানি মৌলবাদীদের নজরে সব সময় থাকেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিশোরীরা। তাই নাবালিকাদের উপরে অত্যাচারের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। শুধু তাই নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে আরও নানান ভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে সেখানে। তাদের উপরে জোর করে নানান ধরনের আইন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কখনো বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দোকানপাট ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন উস্কানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সেই প্রদেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। মোটকথা, সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত চরম দূর্দশার সম্মুখীন হচ্ছেন পাকিস্তানে।