এবার ভু’য়ো CID অফিসার সে’জে লক্ষ লক্ষ টা’কা প্র’তা’র’ণা এক মহিলার

কসবার জাল আইএএস অফিসারকে নিয়ে এখনও তরজা থামেনি। সেই মামলা চলাকালীন এবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে একজন জাল সিআইডি অফিসারের খোঁজ পাওয়া গেল। যিনি এতদিন নিজেকে সমাজসেবী ও সিআইডির DSP পরিচয় দিয়ে এসেছেন। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার একাধিক মানুষের কাছ থেকে তিনি মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে। সম্প্রতি কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

অভিযুক্ত ওই মহিলার নাম রাধারানি বিশ্বাস। কৃষ্ণনগর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালপোতার জে কে সাহা লেন এলাকার বাসিন্দা তিনি। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা মুনমুন খাতুন। তার অভিযোগ, অভিযুক্ত ওই মহিলা নিজেকে সমাজসেবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সকলকে প্রতারণা করেছেন। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বলে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন ওই মহিলা।

অবশ্য গৌরব চট্টোপাধ্যায় নামের এলাকার আরেকজন বাসিন্দা জানাচ্ছেন, রাধারানী বিশ্বাস করোনাকালে বহু অসহায় মানুষকে খাবার সামগ্রী যুগিয়েছেন। নিজেকে তিনি সিআইডির ডিএসপি হিসেবে পরিচয় দিতেন। গৌরবের অভিযোগ, রাধারানী বিশ্বাস তাকে স্বাস্থ্য দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। বগুলা হাসপাতালে মেডিক্যাল করিয়ে তাকে নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে জানা যায় ই-মেল আইডি এবং নিয়োগপত্র সবটাই ছিল ভুয়ো।

গৌরব, মুনমুন ছাড়াও আরো বহু মানুষের থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে রাধারানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন স্থানীয় কাউন্সিলর অর্পিতা চক্রবর্তীর স্বামী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীও অভিযোগ করেছেন রাধারানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তার কাছ থেকে জানা গেল রাধারানী বিশ্বাস ইতিমধ্যেই ১৭ জন মানুষকে প্রতারণা করেছেন। এ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন আরো অনেক মানুষ যাদের কথা এখনও জানা যায়নি। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, এর পেছনে তৃণমূলেরই একটা বড় অংশের মদত রয়েছে।