এই সেই শ্মশান, যেখানে পাহাড়া দিচ্ছেন স্বয়ং যমরাজ

হংসগেড়িয়া মহাশ্মশান, আনুমানিক প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো এই মহাশ্মশানটি রয়েছে মগরাহাট থানার অন্তর্গত গোকুর্ণী এলাকায়। ইতিহাস এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যার মিশেল হয়ে রয়েছে এই মহাশ্মশান। বহু অলীক কল্পকাহিনী রয়েছে এই মহাশ্মশানকে কেন্দ্র করে। হংসগেড়িয়ার এই মহাশ্মশানটি স্থাপিত হয়েছিল ১৩৬৫ সালে। তৎকালীন সময়ে গহীন অরণ্য সাফ করে শ্মশান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সূর্যকান্ত মন্ডল নামের এক ব্যক্তি।

পরে অবশ্য তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই শ্মশানটিকে মহাশ্মশানে পরিণত করেন। এখানে শুরু হয় মহাকালীর আরাধনা। শোনা যায়, কৈলাস পন্ডিত নামক এক সাধক নাকি এখানেই পঞ্চমুন্ডাসন অর্থাৎ পাঁচটি জীবজন্তুর মাথা দিয়ে তৈরি আসনে বসে তন্ত্র সাধনা করতেন। সেই আসনটি এখনো রয়ে গিয়েছে। পঞ্চমুন্ডের ওই আসনটি বর্তমানে বাঁধিয়ে রাখা হয়েছে।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের মুখে শোনা যায়, এই পঞ্চমুন্ডের আসন এতটাই সিদ্ধ ছিল যে এককালে তা স্পর্শ করা যেত না। এখন অবশ্য সেই তেজ আর নেই। তবে প্রায় ১৫০০ বছরের পুরনো সেই শ্মশান কালীর আরাধনা আজও চলে আসছে। এই মহাশ্মশানের একটি নিয়ম রয়েছে। অপঘাতে মৃত ব্যক্তিদের এখানে দাহ করা হয় না, সমাধিস্থ করা হয়।

মহাশ্মশানের মূল প্রবেশ দ্বারে মহাদেবের মূর্তি রয়েছে। শ্মশানের বামদিকে সমাধি স্থল রয়েছে। দাহ করার স্থানে প্রবেশের পূর্বে মাথার উপরে বামদিকে চিত্রগুপ্ত, মাঝখানে যমরাজ এবং ডান দিকে যমদূতের মূর্তি রাখা হয়েছে। মহাশ্মশানে প্রধান চুল্লির পাশাপাশি আরো তিনটি চুল্লি রয়েছে। এখানে পুরুষ এবং মহিলা মৃতদেহ সৎকার করার পূর্বের স্নানের রীতিনীতি পালনের জন্যেও দুটি আলাদা স্থান রয়েছে।