অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন এই বাঙালি পরিবার, আঙুল থাকলেও নেই ছাপ, বিরল রোগে আক্রান্ত গোটা ফ্যামিলি

যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই কাগজপত্র বাদে নিজস্ব পরিচয় প্রমাণপত্র যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে তা হলো তাঁর হাতের বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ। যখন ডিজিটাল দুনিয়া ছিল স্বপ্নের মতো, সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষের কাছে যখন শিক্ষার আলো সেভাবে পৌঁছাতে পারেনি, তখন পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে আঙ্গুলের ছাপই মান্যতা পেয়ে এসেছে। বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়াতেও কিন্তু আঙ্গুলের ছাপের গুরুত্ব অপরিসীম।

ড্রাইভিং লাইসেন্স হোক কিংবা পাসপোর্ট, ডিজিটাল দুনিয়ার প্রমাণপত্র হোক বা কোনো সরকারি পরিষেবা, আঙ্গুলের ছাপ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র আঙ্গুলের ছাপ বিশ্লেষণ করেই একটি মানুষকে অপর মানুষের থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই চিত্রটা একইরকম। এমতাবস্থায় যদি কারোর আঙুলের ছাপই না থাকে তাহলে তাকে দৈনন্দিন জীবনে হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় বৈকি।

যেমনটা ঘটেছে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সি অপু সরকারের সঙ্গে। তার আঙ্গুলে কোনো ছাপ নেই, যে কারণে বর্তমান বায়োমেট্রিক দুনিয়ায় তাকে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এখানে একটি কথা জানিয়ে রাখা দরকার, আঙ্গুলের ছাপ না থাকা কিন্তু এক প্রকার বিরলতম রোগ বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কনজেনিয়াল পালম‌োপ্লান্টার কেরাটোডার্মায় আক্রান্ত ওই পরিবারের পুরুষেরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই রোগ আসলে বংশগত। রোগের কারণে আক্রান্তদের হাত ও পায়ের তালু শুষ্ক হয় এবং কোনো রেখা থাকে না। ২০০৭ সালে এক সুইস মহিলার ক্ষেত্রে প্রথম এই রোগটি চিহ্নিত করা হয়। তারপরই বিশ্ববাসী এই বিরলতম রোগের সম্পর্কে জানতে পারে। বাংলাদেশের বাসিন্দা অপু সরকার এবং তার ভাই এমনকি বাবারও এই রোগ রয়েছে। ঠাকুরদার থেকেই বংশগতভাবে রোগটি পেয়েছেন অপু এবং তার ভাই। এই রোগের কারণে তাদের প্রতিনিয়ত সর্বক্ষেত্রেই হেনস্থার শিকার হতে হয়।