স্ত্রীকে ডি’ভো’র্স দিয়ে অন্য বউদের সা’থে দি’ব্যি স’ঙ্গ উ’প’ভো’গ করছেন এই সেলিব্রেটিরা

বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিয়ে এবং বিবাহ-বিচ্ছেদের ধারণাতে ক্রমে বহু পরিবর্তন ঘটছে। আজও বিয়ের পর বিবাহ বিচ্ছেদ, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে মানুষ কানাকানি করলেও আগের তুলনায় সেই রেসিও অনেকটাই নীচের দিকে। আর মানুষের এহেন ধারণা পরিবর্তনের্যনেপথ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন সেলিব্রেটিরা। সেলিব্রেটিদের জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি কার্যত উদ্বুদ্ধ করছে সাধারণ মানুষদের।

বলিউড সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। মাঝেমধ্যেই বলিউড সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মেতে ওঠে গোটা নেট দুনিয়া। আর এখন এ সংক্রান্ত হট টপিক হল আমির খান এবং কিরণ রাওয়ের বিবাহ-বিচ্ছেদের ঘোষণা। আর এক্ষেত্রে সবথেকে অবাক ব্যাপার হল সাধারণ আর পাঁচটা বিবাহ-বিচ্ছেদের মতো ঝগড়া, অশান্তি, চিৎকার-চেঁচামেচি, পরস্পরের প্রতি দোষারোপ কিংবা কুমন্তব্য করে নয়, এই তারকা দম্পতি নিতান্তই শান্তিপূর্ণভাবে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তা কার্যকর করেছেন। নিজেদের এই সিদ্ধান্তকে তারা প্রকৃত অর্থেই সম্মান করেন।

এমনকি বিবাহবিচ্ছেদ তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে নষ্ট করতে পারেনি। বরং পরস্পরকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেছেন আমির এবং কিরণ। অবশ্য বিচ্ছেদের পরেও বন্ধু হয়ে থাকার এমন অভূতপূর্ব নিদর্শন বিশ্ববাসীকে প্রথম দেখিয়েছেন বিশ্বের ধনীতম ধনকুবের বিল গেটস এবং তার পত্নী মেলিন্ডা। তারাও আজীবন বন্ধু হয়ে থাকার অঙ্গীকার করেই বিচ্ছেদপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। আধুনিক প্রজন্মের কাছে বিচ্ছেদ মানেই পরস্পরের মুখ দেখাদেখি বন্ধ নয়, বিচ্ছেদের মানে দাঁড়ালো নতুন এক সম্পর্কের সূত্রপাত, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অবসান ঘটে ঠিকই কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে যে সেলিব্রিটিদের দেখানো এই নতুন পথ সাধারণের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে? সমাজতাত্ত্বিকদের কি মত?

অনেকেই সেলিব্রিটিদের অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে এ প্রসঙ্গে সাধারণের বক্তব্য এও হতে পারে যে সেলিব্রিটিদের লাইফস্টাইল সম্পূর্ণ আলাদা, তাদের সাথে পা মেলানো সম্ভব নয়। জীবনকে দেখার তাদের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যে সাধারণের মনেও প্রভাব ফেলবে না, এমনটা কিন্তু হলফ করে বলছেন না সমাজতাত্ত্বিকরা। সমাজতত্ত্বের শিক্ষিকা অনন্যা চট্টোপাধ্যায় বলছেন, “আগেও যে এ রকম হতো না, তা নয়। সকলে বিবাহবিচ্ছেদের পরে একে অপরের শত্রু হয়ে যান না। আগে একটা সামাজিক চাপ থাকত। এখন তা কমছে। তাই এ ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ কথা সামনে আসছে।”

সত্যিই তো, সেলিব্রিটিদের দৃষ্টিকোণে বিবাহ বিচ্ছেদের ধারণায় বদল কিন্তু বহু আগে থেকেই ছিল। যেমন, হৃত্বিক রোশন ও তার প্রাক্তন স্ত্রী সুজান। বিচ্ছেদের পরেও বহুবার এই বিচ্ছিন্ন দম্পতিকে সন্তানদের নিয়ে ছুটি কাটাতে দেখা গিয়েছে। আবার কঙ্কনা সেনশর্মা আর রণবীর শোরেও একসঙ্গে পার্টিতে অংশ নিতে কখনোই দ্বিধা করেননি।

এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নই উঠে আসতে পারে। তবে কি সেলিব্রিটিদের অনুপ্রেরণা হিসেবে মেনে বিবাহ-বিচ্ছেদ সম্পর্কিত আদি-অনন্ত যুগের সেই পুরাতন ধারণার বদল ঘটবে? নাকি এখনও কোনো জায়গায় একসাথে বসে দুই প্রাক্তনকে আড্ডা দিতে দেখলে সমাজ আঁতকে উঠবে? পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, সেই সাথে সমাজকেও তাল মিলিয়ে চলতে হবে। নাহলে তো সে পিছনেই পড়ে থাকবে। অবশ্য এ বিষয়ে আশার মুখ দেখছেন সমাজতাত্ত্বিকরা।