ছিলো ৪টি, এখন সংখ্যা ১২০, জলহস্তী খু’নে’র ক’থা ভাবছে কলম্বিয়া, সা’য় দি’লো পশুপ্রেমীরাও

কলম্বিয়ার প্রধান নদী ম্যাগডেলেনা এখন কার্যত জলহস্তীদের কবলে! প্রায় ১২০টি জলহস্তী রাজত্ব করছে সেই এলাকায়। তাদের বংশ বিস্তারের গতি এবং জলহস্তির সংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ পরিবেশবিদদের কাছে চিন্তার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, যে হারে এই জলহস্তীরা বংশবিস্তার করে চলেছে তাতে শীঘ্রই ১২০ থেকে জলহস্তীদের সংখ্যা ১৪০০ তে পৌঁছে যাবে! যার ফলে আপাতত জলহস্তীদের মেরে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখতে পাচ্ছেন না তারা।

অথচ একটা সময় ছিল যখন কলম্বিয়াতে জলহস্তী ছিলই না। কলম্বিয়াতে জলহস্তীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে। এক দুর্দান্ত চোরাশিকারি পাবলো এসকোবার, যাকে কিনা “কলম্বিয়ার ত্রাস” বলা হত, সেই প্রথম নিজের অজান্তেই কলম্বিয়াতে জলহস্তীদের প্রাদুর্ভাব ঘটিয়ে ফেলে। খুনি, অপহরণকারী এবং চোরাশিকারি পাবলো এসকোবার পুলিশের কাছে ছিল মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।

সে চোরাশিকারের পাশাপাশি নিজের বাড়িতেও একটি চিড়িয়াখানা খুলে ফেলে। সেখানেই জঙ্গল থেকে চারটি জলহস্তীকে এনে রেখেছিলো সে। এদিকে পুলিশের হাতে একসময় মৃত্যু হয় তার। তখন তার বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয় এবং চিড়িয়াখানা খুলে পশুপাখিদের জঙ্গলে মুক্ত করে দেওয়া হয়। সেই চারটি জলহস্তীও উন্মুক্ত পরিবেশে মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। আজ তারাই বংশবিস্তার করে নিজেদের সংখ্যা ১২০তে পৌঁছে দিয়েছে।

এদিকে বাস্তুতন্ত্রবিদ এবং পরিবেশবিদরা এই জলহস্তীদের প্রভাবে বাস্তুতন্ত্র নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা জলহস্তিদের এমন দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি জঙ্গলের পরিবেশ দ্রুত বদলে ফেলতে পারে। এতে ওই স্থানের বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ওই এলাকাকে জলহস্তীদের প্রভাব মুক্ত করার জন্য প্রতিবছর অন্ততপক্ষে ৩০টি করে জলহস্তী মেরে ফেলার কথা ভাবছেন তারা।