একটা সময় ছিল না খা’বা’র-থা’কা’র ব্যবস্থা, কাজ করতেন না’ই’ট গার্ডের, তিনি এখন IIM-র অধ্যাপক

কষ্ট করলে নিজের যোগ্য সম্মান ঠিক ছিনিয়ে আনা যায়। সম্প্রতি এই রকম একটি কথার যোগ্য প্রমান দিলেন কেরালার নিবাসী রঞ্জিত রামচন্দ্রন। তিনি বর্তমানে আইআইএম রাঁচিতে একজন সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। কিছুদিন আগে তাকে একটি পোস্ট করতে দেখা গেছে যেখানে বোঝা গেছে জীবনে বহু প্রতিকূলতা পার করে তাকেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে হয়েছে, রামচন্দ্রন এতটাই পারিবারিক সমস্যার মধ্যে জর্জরিত থাকতেন যে, তাকে নাইটগার্ড হিসেবে কাজ করতে হত এক জায়গায়। তার বর্তমান বয়স ছিল ২৮ বছর। গত শনিবার নিজের বাড়ির একটি ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, আইআইএমের অধ্যাপক জন্মগ্রহণ করেছিল এই বাড়িতে। তারপরে এই পোস্ট নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

সংবাদমাধ্যম তরফ থেকে একবার জানা গিয়েছিল যে, রঞ্জিত এতটাই আর্থিক অনটনের মধ্যে ঋণ কাটিয়েছিলেন যে, রাতে নাইট গার্ডের কাজ করতে হতো তাকে। দিনের বেলা কলেজে যেতেন পড়াশুনা করতে এবং রাতে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস নাইট গার্ডের ডিউটি করতেন। এইভাবে পাঁচ বছর ধরে একনাগারে কাজ করে গিয়েছিলেন তিনি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন তাঁর জীবন যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। সকলেই যেন সাফল্যের সন্ধানে লড়াই করতে পারে। এক সময়ে তিনি নাইট গার্ডের চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তখন তিনি মাদ্রাজে একটি চাকরি পান কিন্তু ইংরেজি ভাষা বলতে পারতে না তখন। অধ্যাপক সুভাষ সেই সময়ে তাকে খুব সাহায্য করেছিলেন এবং ইংরেজি শিখিয়েছিলেন তাকে।

এরপর আস্তে আস্তে রঞ্জিত আইআইএমতে শিক্ষক খাবার স্বপ্ন গড়তে শুরু করলো। আইআইটি মাদ্রাজে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি নিজের ভাই এবং বোনের পড়াশোনার খরচ চালাতেন। এরপর ব্যাঙ্গালোরের কৃষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়তে সরকারি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করতেন। আজ তিনি একজন সফল আইআইএমএর অধ্যাপক। তার বাবা ছিলেন একজন ট্রেইলার এবং মা মনোরগায় একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বাড়িটি ছিল একটি ঝুপড়ির মত। বৃষ্টি হলেই জল ঢুকে যেত বাড়িতে। তিনি ছিলেন মারাঠি ভাসি পশ্চাত্পদ উপজাতি সম্প্রদায়ের লোক। তবে কর্ম ক্ষেত্রে কোনোভাবেই তিনি তার জন্য সুযোগ সুবিধা নেননি। শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রমের এবং ইচ্ছে শক্তি দ্বারা সফলতা অর্জন করেছিলেন তিনি।