যশের ক্ষ’ত সারিয়ে উঠতে এখনো ঢের সময় বা’কী, এরই মাঝে জোড়া কোটাল নিয়ে চি’ন্তা’য় মমতা

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডব এখনো সামাল দিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। চলতি মরসুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা গুলি এখনো ক্ষতিগ্রস্ত। ঘূর্ণিঝড়ের মাঝেই আবার ভরা কোটালের জেরে সমুদ্রে এবং নদীতে জলস্তর বেড়ে বন্যাদুর্গত হয়ে পড়েছে বাংলার একাধিক এলাকা। এরই মাঝে আবার জোড়া কোটালের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে এই বিষয়ে সতর্ক করলেন রাজ্যবাসীকে।

মুখ্যমন্ত্রী বুধবার নবান্নে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে জানিয়েছেন যে ১১ ও ২৬ জুন দু’টো বড় কোটাল আসতে চলেছে। তার জন্য এখন থেকেই সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন স্থায়ী সমাধানের খোঁজ করছেন। প্রতিবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলবর্তী অঞ্চল যে ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাতে স্থায়ী সমাধান ছাড়া উপায় নেই বলেই তিনি মনে করছেন।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সেচ দপ্তরের কাজ নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রশ্ন তোলেন, সেচ দপ্তর প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বাঁধ বানালেও প্রতিবছরই তা ভেঙে যাচ্ছে কেন? এই নিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রতিবছর টাকা জলের মতো খরচ হচ্ছে। অথচ লাভ কিছুই হচ্ছে না।

বিগত ১০ বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘাকে মনের মতো সাজিয়ে ছিলেন। অথচ ঘূর্ণি ঝড়ের তাণ্ডবে তা রীতিমতো তছনছ হয়ে গিয়েছে। কংক্রিটের পাথওয়ে ভেঙে গেল কেন? সমুদ্রের বোল্ডারগুলি কেন নষ্ট হয়ে গেল? সুন্দরবন উপকূল থেকে গাছ উধাও হয়ে যাচ্ছে কেন? ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট বলেছিল ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ পোঁতা হবে সুন্দরবনে, এখনো তা হয়নি কেন? প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে ৫ কোটি সুন্দরবনে, ৫ কোটি উত্তর ২৪ পরগনায় এবং ৫ কোটি পূর্ব মেদিনীপুরে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।