বাড়িতে নেই পরিচারিকা, সমস্যায় গৃহবধূরা, পরিচারিকার কাজে যাওয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান জানুন

করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার না হওয়ার জন্য লকডাউন করে এই ভাইরাসকে দমন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। লকডাউনের জেড়ে সমস্ত অফিস কাছারি বন্ধ আজ। সবই ওয়াক ফ্রম হোম করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আছে বাড়ির কাজকর্মও। একাহাতেই সবকিছু সামলাচ্ছেন অনেকে। তৃতীয় দফা লকডাউনের সাথে সরকারের তরফে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হলেও গৃহ সহায়িকাদের নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। আবাসনগুলির পরিচালন সমিতির অবস্থানও স্পষ্ট নয়। তাই প্রয়োজন থাকলেও, লকডাউনের মধ্যে গৃহ সহায়িকাদের কাজে আসার কথা বলতে পারছেন না অনেকেই। জেনে নিন এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর।

দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, আমদাবাদ, হায়দরাবাদের মতো শহর, যেগুলি রেড জোনে রয়েছে, সেখানেও গৃহ সহায়িকা এবং গাড়ি সাফাইকর্মীদের কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।কনটেনমেন্ট এলাকাগুলিতে জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাইরে বেরনোর অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। তবে গৃহ সহায়িকা, গাড়ি সাফইকর্মী, সাফাইকর্মী, বিদ্যুৎকর্মী, কলমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি-সহ স্বনির্ভর পরিষেবা প্রদানকারী সকলকেই কাজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী ,কনটেনমেন্ট এলাকাগুলিকে বাদ দিয়ে বাকি সর্বত্র স্থানে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাইরে বেরোনোয় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে রেড এবং অরেঞ্জ জোনে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।বাড়ির বাইরে বেরনোয় নিষেধাজ্ঞা থাকাতেই এত দিন কাজে যেতে পারছিলেন না গৃহ সহায়িকারা। কিন্তু ৪ মে থেকে তৃতীয় দফার লকডাউনে সেই নিষেধাজ্ঞা না থাকায়, তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ায় কোনও বাধা নেই।

কেন্দ্রীয় আবাসিক সংগঠনের কোনও উল্লেখই নেই কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিকের কাছে থেকে খবর পাওয়া অনুযায়ী ‘‘লকডাউনের সীমা নির্ধারণ করার ক্ষমতা নেই আবাসিক কল্যাণ সংগঠনের। শুধুমাত্র কেন্দ্র এবং রাজ্যের হাতেই এই ক্ষমতা রয়েছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ওই সংগঠনকে দেয়নি কেন্দ্র। গৃহ সহায়িকা-সহ স্বনির্ভর পরিষেবা প্রদানকারীদের কাজে ফেরা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই কেন্দ্রের।’’লকডাউন নিয়ে দিল্লির সরকারের তরফে যে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সেলুন বাদ দিয়ে সবরকমের স্বনির্ভর পরিষেবাকেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিকের মন্তব্য নিয়েই গোলযোগ বাঁধে। আবাসিক কল্যাণ সংগঠনই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি। আইনের দিক থেকে তা করতে পারে না আবাসিক কল্যাণ সংগঠন। কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলিতে গাড়ি পার্কিং-সহ যে ধরনের বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র, সে ভাবেই গৃহ সহায়িকা প্রবেশ নিয়েও তেমন নির্দেশ দিতে পারে তারা। তবে গৃহ সহায়িকাকে আবাসনে ঢুকতে দেওয়া হবে কি না, তা আবাসনের সকলকে একজোট হয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।