কৃষক বিল নিয়ে দেশজুড়ে হৈচৈ, কি এমন রয়েছে কৃষি বিলে, জেনে নিন বাংলার কৃষকরা

বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতার মধ্যেই শুক্রবার লোকসভায় এবং তারপর রবিবার রাজ্যসভায় কেন্দ্রের প্রস্তাবিত কৃষি সংক্রান্ত তিনটি নতুন বিল পাশ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি অনুসারে, এই নতুন কৃষি বিল আইনে পরিণত হলে কৃষকের উপকৃত হবেন। কৃষিক্ষেত্রে উদারীকরণই কেন্দ্রের এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। তা সত্ত্বেও, বিল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রে বিরোধিতা করছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা।

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত প্রথম বিলটি হলো কৃষি বাজার সংক্রান্ত বিল, যেখানে বলা হয়েছে এবার থেকে রাজ্যের কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য কৃষি মান্ডির বাইরের খামারেও ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন। ফলে এবার থেকে কৃষকেরা রাজ্যের ভেতরে এবং বাইরে ও কৃষি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। পাশাপাশি কৃষকদের সুবিধার্থে বিপণন এবং পরিবহন ব্যয় কমানো হয়েছে। এর সাথে কৃষকদের জন্য থাকছে ই-কমার্স এর সুবিধা।

তবে, বিরোধীদের অভিযোগ কৃষকেরা কৃষক মান্ডি ব্যতীত রাজ্যের বাইরে পণ্য রপ্তানি করলে রাজ্যের রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষতি হবে। কারণ কৃষি মান্ডি থেকে রাজ্য সরকার মান্ডি ফি পায়। নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে, রাজ্যের কোষাগারে টান পড়বে। পাশাপাশি রাজ্যের নিযুক্ত ‘কমিশন এজেন্টরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ন্যুনতম সমর্থিত মূল্যের ক্রয় ব্যবস্থারও অবসান ঘটবে। পাশাপাশি বিল অনুযায়ী কৃষকরা কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য কৃষিবাণিজ্য সংস্থা, প্রক্রিয়াকারক সংস্থা, হোলসেলার, পাইকারি ব্যবসাদার এবং খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে পণ্যের পূর্বনির্ধারিত মূল্যে চুক্তি করতে পারবেন।

বিরোধীদের দাবি, এর ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ তারা বিক্রেতাদের সঙ্গে দরা দরি করতে অভ্যস্ত নন। ফলে ঠকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, স্পন্সররা ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে চুক্তি করতে রাজি হবেন না বলেই মনে করছে বিরোধীরা। কেন্দ্রের তরফ থেকে এও বলা হয়েছে, যুদ্ধের মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বাদে খাদ্যশস্য, ডালশস্য, তৈলবীজ, পেঁয়াজ এবং আলু জাতীয় পণ্য মজুত করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষকদের কম মূল্যে বড় সংস্থার কাছে কৃষি পণ্য বিক্রি করতে হবে।