মানুষকে নানাবিধ আজগুবি গল্প বলাই হলো তাদের পেশা, জানুন কিভাবে কাজ করতো তারা

রূপকথার গল্প শুনতে কে না ভালবাসে? আজকের এই ব্যস্ততার ভিড়ে, উন্নত প্রযুক্তির আধুনিক দুনিয়াতেও যেন “ফ্যান্টাসি” সম্পর্কে সাধারণের মনে এক আলাদাই জায়গা রয়ে গিয়েছে। আজকের শিশুরা ঠাকুরমা ঠাকুরদার কাছে বসে গল্প শুনতে ততটা অভ্যস্ত না হলেও টেলিমিডিয়া মারফত অথবা স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন মারফত কমবেশী গল্প শুনেই থাকে।

তবে জানেন কি একসময় এই জগতে “গল্প বলিয়ে” নামেরও একটি জীবিকা ছিল? রূপকথার জগতের বহু অলীক গল্প-গাছা ছিল তাদের ভান্ডারে। তখনও অবশ্য জগতে টেলিভিশনের উদ্ভব ঘটেনি। সাধারণের বিনোদনের জন্য একদল মানুষ তখন তাদের গল্পের ভান্ডার খুলে বসলেন। এদের বলা হত “দাস্তানগোয়িরা”।

দাস্তানগোয়িরাদের সম্ভারে প্রচুর গল্প মজুত ছিল। তারা যেন এক একজন জীবন্ত গ্রন্থাগার হিসেবেই বিবেচিত হতেন। দেশ-বিদেশের বহু গল্পই মনের মনিকোঠায় সযত্নে রেখে দিতেন তারা। কোনো বই কিংবা পুঁথি ছাড়াই এসব গল্প তাদের যেন একেবারে ঠোঁটস্থ ছিল। সাধারন মানুষকে সেই গল্প শুনিয়েই রোজগার করতেন তারা। এভাবেই চলত তাদের সংসার।

দিল্লীর মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের আমলে দিল্লির রাজসভায় সম্রাটের বিনোদনের জন্যে ঠাঁই পেয়েছিলেন বেশ কিছু “দাস্তানগোয়িরা”। মুঘল সম্রাট হুমায়ুন যখন বিহারের সুবাদার শেরশাহের কাছে পরাজিত হয়ে পারস্যে যান তখনই তিনি এই সকল দাস্তান তথা কিসসা তথা গল্প বলিয়েদের সন্ধান পান। এর পর দেশে ফিরে এসে দিল্লির মসনদ পুনরায় অর্জন করে “দাস্তানগোরিয়া”দের সসম্মানে নিজের রাজসভায় জায়গা দিয়েছিলেন হুমায়ূন।