বিমার টাকা আত্মসাৎ করতে নিজেই নিজের হাত কেটে বাদ দিলেন তরুণী, এরপর যা হলো

একমাত্র বীমা কোম্পানির মানুষেরাই আমাদের ভালোভাবে বোঝাতে পারে, আমাদের মৃত্যুর পর কতখানি সুবিধা পেতে চলেছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। তাদের সঙ্গে আমরা তাদের সামনে আমাদের মৃত্যুর পরবর্তী কথা আলোচনা করে থাকি। তবে জীবন বীমার টাকা পাওয়ার জন্য নিজের ক্ষতি করেন, এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া দায়। তবে এমন মানুষ যে একেবারেই নেই তা বলা যায় না। ঠিক এমনটাই একটি কাণ্ড ঘটিয়েছেন স্লোভেনিয়ার একজন ২২ বছরের তরুণী। বিমার টাকা পাওয়ার জন্য নিজেই নিজের হাত কেটে ফেললেন এই তরুণী। তরুনীর নাম জুলিজা আদেলেসিক।কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা পাঠাতে দূর স্থানীয় একটি আদালত তাকে দু’বছরের জন্য হাজতবাসের সাজা শোনাল।

এছাড়াও এই কাজে সাহায্য করে তার সঙ্গীকে তিন বছরের জন্য সাজা শোনানো হয়েছে।সূত্র থেকে খবর পাওয়া গেছে, এই তরুণী প্রথমে নিজের হাতে বিমা করেছিলেন। তাতে লেখা ছিল যে, কোন দুর্ঘটনায় তার হাত যদি বাদ চলে যায়, তাহলে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি তিনি পাবেন। এরপর টাকা পাবার লোভে নিজের সঙ্গী এবং আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে গোটা পরিকল্পনাটি সাজান তিনি। একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজেই নিজের হাত কেটে ফেললেন। এরপর হাসপাতালে চলে যান সেই হাত ছাড়া। তিনি প্রমাণিত করতে চেয়ে ছিলেন যে, কোন একটি দুর্ঘটনায় তার হাত বাদ চলে গেছে।

এটা প্রমাণ করতে পারলে তিনি তিনগুণ টাকা পেতেন। এদিকে হাসপাতলে ভর্তি হবার পর খবর দেওয়া হয় বীমা কোম্পানিগুলো তে।কিন্তু তদন্তে নেমে বীমা কোম্পানির একজন আধিকারিক তার কাটা হাত টি উদ্ধার করে ফেলেন।এর পরেই বেরিয়ে আসে সত্যি ঘটনাটা। প্রথমে সকলে অবাক হয়ে যান ঘটনা শুনে। অনেকেই প্রশ্ন করেন যে,”কিভাবে শুধুমাত্র টাকার জন্য নিজের হাতটা বাদ দিয়ে দিতে পারে”?এই কৃতকর্মের জন্য যুবতীর নামে মামলা দায়ের করা হয়।

সেইমতো তদন্ত শুরু করা হয়।তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায় যে কিছু দিন আগে পাঁচটা পৃথক কোম্পানিতে এই তরুণী নিজের হাতের বীমা করিয়েছেন। এর পরেই তাকে দু বছরের এবং তার সঙ্গীকে তিন বছরের জন্য সাজা শোনালো আদালত। সামান্য কিছু টাকার জন্য নিজের অঙ্গের ক্ষতি তো হলোই, উল্টে এক টাকাও জুটলোনা যুবতীর ভাগ্যে।