বাঙালির “বর্ণ পরিচয়”, ১৬৬ বছর আগে এক আনার বই পড়েই শব্দ চেনা শুরু

বাঙালির শব্দ এবং বর্ণ চেনা যার হাত ধরে, তাহল বর্ণপরিচয়। আজও প্রতি বছর যেকোন বই এর মাধ্যমে প্রথম শিক্ষা গ্রহণ করে।১৬৫ বছর ধরে এই যাত্রা আজও বর্তমান। একইভাবে এই বই আমাদের শিক্ষিত করে চলেছে। ১৩ ই এপ্রিল ১৮৫৫ সালে, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম বর্ণপরিচয় প্রকাশিত হয়েছিল। বর্ণপরিচয় প্রাথমিক স্তরের শিশু শিক্ষা গ্রন্থ। এই গ্রন্থের প্রথম ভাগে স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে এবং তার সঙ্গে অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট ২১ টি পাঠ রয়েছে। গ্রন্থটির দ্বিতীয় ভাগে সঞ্জুক্তা বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ এবং বাক্য গঠন, অংক ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশ ধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ রয়েছে।

সেই যুগে এই বই দুটি কেনা হতো মাত্র দুই পয়সা দিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, প্যারীচরণ সরকার এবং বিদ্যাসাগর মহাশয় দুজনে মিলে ঠিক করেন যে ইংরেজি এবং বাংলায় সকলকে শিক্ষিত করার জন্য তা তিনি পুস্তিকা লিখবেন। সেই সময় প্যারীচরণ ফার্স্ট বুক অফ রিডিং, বিদ্যাসাগর মহাশয় বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগ প্রকাশ করেন। মফস্বলে স্কুল পরিদর্শনে যাওয়ার সময় পালকিতে বসেই নাকি বর্ণপরিচয় এর পাণ্ডুলিপি তৈরি করে ফেলেছিলেন বিদ্যাসাগর মহাশয়।

ডঃ অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় এর পূর্বে ছাপার অক্ষরে কিছু জাতীয় পুস্তিকা বাজারে চলত। রাধাকান্ত দেব রচিত বাংলা শিক্ষা গ্রন্থ, বর্ণমালা প্রথম ভাগ, বর্ণমালা দ্বিতীয় ভাগ, এই সমস্ত বই পাওয়া যেত তখন। বাংলা বর্ণমালায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ক্ষমতা এই রচয়িতা দের মধ্যে ছিল না।

ডক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, শুনতে পাওয়া যায় যে, প্যারীচরণ সরকার এবং বিদ্যাসাগর একবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, দুজনাই ইংরেজি এবং বাংলা বর্ণ শিক্ষা বিষয়ক প্রাথমিক পরীক্ষা লিখবেন। সেইমতো তারা দুজনেই বই লিখতে শুরু করেন। আজও সেই সমস্ত বই অথবা গ্রন্থ মানুষের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।