সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়ই উপপ্রধানমন্ত্রীর মুখে কোল্ড ড্রিংকস ছুড়ে পালালো মহিলা

গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানদের উপর হামলার ঘটনা বহুবার ঘটেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন দৃশ্য এর আগে বহুবার দেখা গেছে। তবে আয়ারল্যান্ডে বোধহয় এই ঘটনা প্রথমবার ঘটলো। ভারতীয় বংশোদ্ভূত উপ-প্রধানমন্ত্রী মিডিয়া সাক্ষাৎকার চলাকালীন আক্রান্ত হলেন একজন নাগরিকের হাতে। বীরের প্রতি বেশি এই দেশে এখনো মহামারীর জন্য কিছু বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন সেখানকার উপপ্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার।সে সময় হঠাৎ মাক্স পরিচিত একজন মহিলা এসে আচমকা তার মুখে কিছু পানীয় ছুড়ে পালিয়ে যায়।

সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।ডাবলিনে মহামারীর নিয়ম-কানুনের কি প্রয়োজনীয়তা আছে তা নিয়ে সমান মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন লিও। একটি বাগানের মধ্যে দাঁড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্যামেরার সামনে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ দেখা যায় যে মাক্স পড়ে একজন মহিলার হাতে স্কেটবোর্ড নিয়ে সেখানে এসে দাঁড়ায়। তারপর কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা।হঠাৎ করে নরম কিছু প্রাণী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীর মুখে ছুড়ে দিয়ে পালিয়ে যায় সে।সাংবাদিকসহ সকলে এতোটাই হতভম্ব হয়ে গেছে যে কেউ ওই নারীকে ধরবার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।

তবে এই ঘটনার পরে লিও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভাগ্যিস তিনি সাক্ষাৎকার প্রায় শেষ করে ফেলেছিলেন। এই ঘটনার পরেও কোনো রকম সুরক্ষা নিতে নারাজ সেখানকার উপ প্রধানমন্ত্রী। তবে ওই মহিলাকে প্রথমে পপস্টার এভ্রিল লভিনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন উপ প্রধানমন্ত্রী। লিও জানিয়েছেন যে,”আমার মুখে আর শরীরের নরম পানীয় জাতীয় কিছু ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে আমার স্যুট নষ্ট হয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত শুট থাকার কারণে আমার কোন অসুবিধা হয়নি”।এ বিষয়টি নিয়ে হালকাভাবে নিলেও আয়ারল্যান্ডের অন্য রাজনীতিবিদরা এই বিষয়টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী গাভীন দাভি জানিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক দেশে কারো সঙ্গে মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু তা বলে কাউকে নিগ্রহ করা যায় না। পানীয়র বদলে যদি অ্যাসিড থাকতো, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হতে পারতো। রাজনীতিকদের নিরাপত্তা আরও কঠোর হওয়া উচিত”। অভিযুক্ত মহিলাকে সেখানকার পুলিশ এখনো খুঁজে চলেছে বলে জানা গেছে।