জন্ম সার্টিফিকেটের জালচক্রের হদিশ ইংরেজবাজার পুরসভায়, তোলপাড় শুরু

মালদা, ১৫ জানুয়ারি- জন্ম সার্টিফিকেটের জালচক্রের হদিশ ইংরেজবাজার পুরসভায়। যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে পুরসভা কর্তৃপক্ষের মধ্যে। পুরসভার প্রশাসক নিহার ঘোষ অভিযোগের ভিত্তিতেই এক মহিলা কর্মীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার পিছনে একটা চক্র কাজ করছে বলেও অনুমান করছে পুরসভার প্রশাসক মন্ডলী কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে পুরসভার স্থায়ী ওই মহিলা কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার পুরসভা কর্তৃপক্ষ।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার থানার নরহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগী বিবি তাঁর মেয়ের জন্মের শংসাপত্র নেওয়ার জন্য আবেদন করেন ইংরেজবাজার পুরসভায়। সোহাগী বিবির কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছিল মালদা মেডিক্যাল কলেজে। সেই সূত্রেই শংসাপত্র ইংরেজবাজার পুরসভা থেকে করাতে হয়। কিন্তু কন্যা সন্তানের জন্মের শংসাপত্র না পাওয়ার কারণে তিনি পুরসভায় আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় সোহাগী বিবি নামে ওই মহিলাকে। শংসাপত্রে সামান্য ত্রুটির কারণে সেটি ঠিক করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় পুরসভার স্থায়ী মহিলা কর্মী । এর বিনিময়ে নেওয়া হয় ৬০০ টাকা ঘুষ বলে অভিযোগ। আর তারপরেই সোহাগী বিবিকে তার মেয়ের জন্মের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগকারী মহিলা সোহাগী বিবির বক্তব্য, পুরসভা থেকে পাওয়া মেয়ের জন্মের শংসাপত্রের জন্মতারিখ ভুল ছিল। সেটি ঠিক করতে দেওবার জন্যই পুনরায় পুরসভাতে আবেদন জানানো হয়।

পুরসভার এক মহিলা কর্মী আমাকে বলে ৬০০ টাকা দিলেই শংসাপত্র ঠিক করে দেওয়া হবে। কয়েকদিন আগেই আমাকে মেয়ের জন্ম তারিখ-এর শংসাপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ভুল একই থেকে যায়। এরপরই সেই শংসাপত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে পুরসভার প্রশাসক নিহার ঘোষের কাছে যায় । কিন্তু তিনি এই সার্টিফিকেট দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসারদের ডেকে পাঠান। তারপর এই ভুয়ো শংসাপত্রের বিষয়টি জানতে পারি। ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক নিহার ঘোষ বলেন, যে জন্মের শংসাপত্রটি আমাকে দিয়েছিলেন ওই মহিলাটি, সেটি তদারকি করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসারদের ডেকে পাঠায়। অফিসাররাই শংসাপত্র দেখে অবাক হয়ে যান। তাঁরা বলেন এটা সম্পূর্ণ জাল। এই ধরনের শংসাপত্র তারা অনুমোদন দেন নি। এমনকি ওই শংসাপত্রের আধিকারিকদের সই জাল করা হয়েছে। এই ঘটনায় আপাতত ওই মহিলাকে অন্য দপ্তরে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনার কটাক্ষ করে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অজয় গাঙ্গুলী বলেন, ঘটনাটি ধরা পড়েছে বলে জানা গেল।এই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ভুরি ভুরি ঘটনা ঘটছে। কর্মী থেকে আধিকারিক এই ধরনের ঘটনায় যুক্ত।