নিয়োগে স্থগিতাদেশ, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে হাইকোর্টকে বোঝানোর নির্দেশ পার্থর

দীর্ঘ সাত বছর পরে ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ের জেরে প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ থমকে যাওয়ার কারণে চাকরি প্রার্থীরা এই মুহূর্তে প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিপূর্বে বহুবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চাকরি প্রার্থীরা নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে শেষমেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি এলেও ফের উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, প্রাথমিক টেটে ১৬,৫০০ পদে যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে তাতে কোনো দুর্নীতি হয়েছে বলে তার জানা নেই। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রতি তার পরামর্শ, “কোর্টকে ভালো করে বোঝান, নিয়োগে কোনো দুর্নীতি হয়নি।” তিনি আরো বলেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। নতুবা বয়সের নিরিখে প্যানেলভুক্ত চাকরিপ্রার্থীরা চাকরি ক্ষেত্রে যোগ্যতামান হারিয়ে ফেলবেন!

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রতি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর পরামর্শ, প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যান। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখলে প্যানেলভুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের বয়স ফুরিয়ে যাবে। ফলে চাকুরী ক্ষেত্রে তারা তাদের যোগ্যতামান হারাবেন। যা কখনোই কাম্য নয়। উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোটের আগে দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চেয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।

তবে রাতারাতি নিয়োগ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে এবং মেধা তালিকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন একদল চাকরিপ্রার্থী। এর ফলে একদিকে যেমন ভোটের আগে রাজ্য সরকারের মুখ পুড়েছে তেমনই দীর্ঘ সাত বছর পরে প্যানেলভুক্ত যাদের চাকুরী লাভের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, সেই সম্ভাবনাও থমকে গিয়েছে।