ভোট পরবর্তী হিং’সা’য় আ’ক্রা’ন্ত’দে’র রেশন ও চিকিৎসার ব্য’ব’স্থা ক’র’তে হবে রাজ্যকে: হাইকোর্ট

ভোটের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে যে ভাবে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই মামলায় এবার রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট। হাইকোর্টে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বারা পেশ করার রিপোর্ট অনুযায়ী একটি পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল এবং তার পরে এই মামলার শুনানি করা হয়। শুনানি হয়ে যাওয়ার পরে বেঞ্চের তরফ থেকে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের পরবর্তী সময়ে যত অভিযোগ এসেছে সমস্ত অভিযোগগুলি এফআইআর করতে হবে। যারা আক্রান্ত হয়েছে এই হিংসার কারণে তারা কি বলতে চাইছেন তাদের সমস্ত রেকর্ড করতে হবে।

ভোট পরবর্তী সময়ে যারা জখম হয়েছে তাদের চিকিৎসা করার ব্যবস্থা রাজ্যকে করতে হবে এবং যাদের রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শুনানি হয়ে যাওয়ার পর হাইকোর্টের তরফ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের পরবর্তী সময়ে যে হিংসা এবং সন্ত্রাস হয়েছে তার সমস্ত নথি সংরক্ষণ করতে হবে। যদি কোনো নথি হারিয়ে যায় তা পেতে যেন কোন রকম সমস্যা না হয় সেই ব্যবস্থাও করতে হবে রাজ্যকে। বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাস এবং হিংসার সম্মুখীন হয় বহু মানুষ।

ঘরছাড়া রয়েছে বিজেপির একাধিক সমর্থকরা। বেলেঘাটার এক বিজেপি সমর্থক অভিজিৎ সরকারকে হত্যা করা হয় এমনই অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শুধু অভিজিৎ সরকার নয় আরও একজন বিজেপি কর্মীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর প্রায় ১৬ জন বিজেপির দলীয় কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

এই সমস্ত ঘটনার ভিত্তিতে হাইকোর্ট জুন মাসের ১৮ তারিখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অরুণ মিত্রকে একটি কমিটি গঠন করে সমস্ত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয়। এই ব্যাপারে হাইকোর্ট রাজ্যকে নির্দেশ দেয় যে সহযোগিতা করার জন্য। যদি কোন রকম সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যথা করা হয় তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে রাজ্যকে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ১৪ জনের প্রতিনিধি একটি দল কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করে এবং সকল মানুষের সাথে কথা বলে একটি রিপোর্ট তৈরি করেন যা ৩০ শে জুন হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়।