কেন্দ্র পুরো টাকা দিলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে রাজ্যের আপত্তি নেই, ঘোষণা মমতার

কেন্দ্রের প্রণীত “আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প” নিয়ে বিরোধীরা বরাবরই মমতা সরকারকে দুষছেন। বিরোধীদের দাবি, শুধুমাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে রাজ্যবাসীকে “আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প” এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ জবাব, রাজ্যে “আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প” বাস্তবায়িত করার জন্য ১০০ শতাংশ টাকা দিক কেন্দ্র। তবেই এই প্রকল্প রাজ্যে চালু করা হবে।

মঙ্গলবার খড়্গপুরে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে দুই বছর আগেই “স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প” এর উদ্বোধন ‌করা হয়েছে। এখন কেন্দ্র যদি নতুন করে “আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প” রাজ্যে চালু করতে চায়, তাহলে তাতে বাধা দেবে না রাজ্য সরকার। তবে রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হবে, তা কেন্দ্র সরকারকেই বহন করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করার জন্য একটি টাকাও খরচ করবে না রাজ্য সরকার। পুরো টাকাটা কেন্দ্রকেই দিতে হবে। উল্লেখ্য, আসন্ন একুশের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করছে রাজ্য শাসক দল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে এদিন একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন তপশিলি জাতিভুক্ত ব্যক্তিরা ৬০ বছর বয়সের পর থেকেই রাজ্যের তরফ থেকে পেনশন পাবেন।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের একাধিক বুথে ধাক্কা খায় তৃণমূল। আসন্ন একুশের নির্বাচনকে মাথায় রেখে ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য এবার জঙ্গলমহলের পিছিয়ে পড়া জনজাতির উন্নয়নকেই প্রধান হাতিয়ার করে এগোতে চাইছে তৃণমূল। তাই লোধা-শবর জনজাতিদের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারের তরফ থেকে তাদের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এ দিনের বৈঠকে এই সকল পিছিয়ে পড়া জনজাতির নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের অভাব অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী।