উদ্বাস্তুদের জমির পাট্টা দিতে বিশেষ পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের, মিলবে সুযোগ সুবিধা!

পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের জন্য একাধিক উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। গত বুধবার, রাজ্যের আদিবাসী, তফশিলি ও বিভিন্ন উপজাতির প্রতিনিধিদের নিয়ে নবান্নে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকেই রাজ্যের প্রায় ১১৯টি কলোনির জমির রায়তি অধিকার সেখানকার বাসিন্দাদের হাতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানালেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জমিতে যে ১১৯টি কলোনি গড়ে উঠেছে, তার রায়তি অধিকার পাবেন সেখানকার বাসিন্দারা। তিনি জানালেন, রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষ যারা দীর্ঘদিন ধরেই এখানে বসবাস করছেন, অথচ যাদের কোনো নির্দিষ্ট জমির কাগজ নেই, তাদেরকে জমির পাট্টা দেবে পশ্চিমবঙ্গের ভূমি দপ্তর।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে জমির পাট্টা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের জন্যেও শীঘ্রই পাট্টা বিলির ব্যবস্থা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, রাজ্যের আদিবাসী, উদ্বাস্তু মানুষদের জন্য নতুন আইন আনা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী রাজ্যের সমস্ত উদ্বাস্তু কলোনিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের জমি আর কেউ কখনও কেড়ে নিতে পারবে না।

অপর একটি ঘোষণা মারফত মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসসি, এসটি সার্টিফিকেটের জন্যেও এখন অযথা হয়রান হতে হবে না। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি নতুন সরলীকৃত নিয়ম আনা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, পিতার পরিবারের তরফে যদি কারোর জাতিগত শংসাপত্র থাকে, তাহলেই আবেদন করা যাবে। আবেদন করার চার সপ্তাহের মধ্যেই জাতিগত শংসাপত্র পেয়ে যাবেন আবেদনকারী। যারা নতুন আবেদন করছেন তাদের ক্ষেত্রে, সরকারি প্রতিনিধিরা এলাকায় গিয়ে পরিবারের বয়স্ক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন।