চাকচিক্য জাঁকজমক এখন অতীত, রানু মন্ডল ফিরলেন সেই স্টেশনেই

কথাতেই আছে অতি বাড় বেড়ো না ঝরে পড়ে যাবে। তেমনই কিছুটা অবস্থা হয়েছিল রানু মন্ডল এর।পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট স্টেশনের একজন সামান্য ভিখারি হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে দেখতে পেলেন বলিউডের ঝাঁ-চকচকে দুনিয়া। মুহুর্তের মধ্যে তার গান ভাইরাল হয়ে গেছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবে ওই যে, বেশি দম্ভ কখনোই ভালো নয়। তাই মাস কয়েক যেতে না যেতেই আবার তাকে ফিরে যেতে হল নিজস্ব জীবনে। সেই পুরনো দিনের মতোই আবারো তাকে দুমুঠো ভাত জোগাড় করার জন্য সারাদিন হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে স্টেশনে। আগের মতোই পথচলতি মানুষদের যা খেতে দেয়, জানিয়ে দিন গুজরান হয় তার। তখন তার সহায় সম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্য।

যেই সময় রানু মন্ডল কে সবাই চিনতেন,তখন তিনি বলেছিলেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে কাজের সন্ধানে মুম্বাইতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন অভিনেতা ফিরোজ খানের বাড়িতে কাজ করেছিলেন তিনি।এরপর নদীয়াতে ফিরে আসার পর কিছু দিন একসঙ্গে থাকার পর তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাবার পর একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন রানু মন্ডল। শুধুমাত্র মাসি এবং মেসো রানুকে নিজের বাড়িটি দিয়ে গিয়েছিলেন বলে মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল তার। কিন্তু খাবারের সন্ধানে তাকে ঘুরে বেড়াতে হতো রানাঘাট স্টেশনের প্লাটফর্মে। সেখানেই একদিন অতীন্দ্র নামে এক যুবক মোবাইলে তার গান রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেন। তারপর থেকে তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি কোনদিন। হিমেশ রেশমিয়া সঙ্গে তার গান গাওয়া যেন ছিল এক স্বপ্নের মত।

স্পটলাইট যখন ছিল তার ওপর, তখন তাকে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে উপহাস করতেও ছাড়ে নি কেউ। তার প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর ছিল সকলের।অনান্য গায়িকাদের মত সাবলীল না হবার জন্য অচিরেই তার ফ্যান ফলোইং কমতে আরম্ভ করে।যে মানুষটি ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখত, সে হঠাৎ করে সাধারণ মানুষের স্পর্শ কেও ঘৃণা র চোখে দেখত। তাই ধীরে ধীরে আবার তার জীবন থেকে সমস্ত সুখ স্বাচ্ছন্দ চলে যায়। সাধারণ মানুষ তার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে দেয়। ঝলমলে জীবন পাল্টে গিয়ে আবার ফিরে আসে রাতের অন্ধকার।এখনো তাকে খুঁজতে হলে আপনাকে যেতে হবে রানাঘাটের শেষ স্টেশন চত্বরে।