কাশ্মীরের সাতমুখী গুহা, পাণ্ডবদের মন্দির না পাকিস্তান-রাশিয়া যাওয়ার কোনো গুপ্ত পথ?

কাশ্মীর যাকে বলা হয় ভূস্বর্গ সেখানেই লুকিয়ে আছে অজানা বিশেষ কিছু রহস্য। কাশ্মীরের ওয়ালায় অবস্থিত কালারস গুহা কে ঘিরে আছে অজানা অনেক রহস্য। লোকমুখে প্রচলিত আছে এই গুহা পথ দিয়ে নাকি পৌঁছে যাওয়া যায় অন্য দেশে। গুহার ভিতর দিয়ে রাস্তা আছে নাকি পাকিস্তান পর্যন্ত এমনকি বিশ্বাস করা হয় এই গুহা পথের সুরঙ্গ দিয়ে রাশিয়াতেও পৌঁছে যাওয়া যায়। কাশ্মীরের অন্তর্গত দুটি গ্রাম অর্থাৎ “লাশতিয়াল” যেটি কূপওয়ারার অন্তর্গত এবং “মাধমাদু” গ্রাম, এই দুটি গ্রামেরই মধ্যে অবস্থান করছে একটি বৃহদাকার পাথর। যদিও এই পাথরটি দীর্ঘ কবে থেকে এখানে পড়ে আছে তা অজানা। বাইরে থেকে হঠাৎ দেখলে এটিকে একটি পাথর মনে হতে পারে কিন্তু আসলে এটি একটি পাহাড়ের অংশ এবং এর গায়ের পরস্পর রয়েছে সাতটি প্রবেশদ্বার।

আগে মানুষরা পাহাড়ের গা কেটে নিজেদের সুবিধার্থে বিভিন্ন সুরঙ্গ পথ তৈরি করত এবং সেই গুহা পদগুলিতে নিজেদের মতন করে নিত। তবে এই সাতটি গুহা পদ কবে কারা তৈরি করেছেন এবং এর মধ্যে দিয়ে কারাই বা যাতায়াত করতো ইতিহাসে তার কিছু প্রমান উল্লেখ করা নেই। স্থানীয় মানুষেরা জানিয়েছেন, তাদের পূর্বপুরুষরা বলতো এই পথ গুলো দিয়ে নাকি ভারতে প্রবেশ করত রাশির মানুষরা।সাতটি প্রবেশদ্বারের কারণে এই পাথরটির নামকরণ করা হয়েছিল “সাতবারণ”। যেহেতু স্থানীয় মানুষরা বিশ্বাস করত এই গুহা পথ রাশিয়া অব্দি বৃষ্টি তো তাই স্থানীয় নাম দেয়া হয়েছিল “কালারুস”। নামটি কে ভেঙে বলতে গেলে বলতে হয় রুশদের কেল্লা বা রাশিয়াদের কেল্লা।

গুহাটি অজানা রহস্য ভেদ করার জন্য আমেরিকার ভার্জিনিয়া থেকে এক দম্পতি এসেছিলেন ২০১৮ সালে। তারা শুরু করেছিলেন তাদের অনুসন্ধান গুহার তিনটি প্রবেশপথ কে ঘিরে। তাদের সাহায্যার্থে ছিলেন দুই গুহা বিশেষজ্ঞ এবং একজন ইঞ্জিনিয়ার। প্রতিটি গুহা পথে তারা অনুসন্ধান চালানো এবং জানিয়েছিলেন অতীতে এইগুলা বাদ দিয়ে হয়তো যাতায়াত করা হত কিন্তু বর্তমানে এই ভুয়া পদগুলি বিশেষ কিছু দূরত্ব যাওয়ার পর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তার কারণও অবশ্য অজানা। কিছু গুহামুখ উপর দিকে উঠে গেছে আবার কিছু গুহা পথ নিচের দিকে নেমে গেছে যেগুলি কোন কোন জায়গায় অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ আবার কিছু জায়গায় প্রশস্ত। একটি গুহা পথ কিছু কিছু জায়গায় সংকীর্ণ হলো পরস্পর কিছু দূরত্বে একটি করিডোর আছে।

অভিযাত্রী দল আরো জানিয়েছেন যে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বলেছিলেন এটি শুধু একটি পাথর নয়, প্রাচীন যুগে পঞ্চপান্ডবের নাকি এইখানে অজ্ঞাতবাসে ছিলেন। যদিও এটি সঠিক কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। গোয়া পথ দিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর সবকটি পথেই বাধার সৃষ্টি করেছে, অর্থাৎ প্রত্যেকটি গুহা পথে বিশেষ দূর যাওয়ার পর বন্ধ, কিছু পথ যেমন প্রাকৃতিক কারণে বন্ধ হয়ে গেছে আবার তেমনই কিছু পথ ইন্ডিয়ান আর্মি বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও এর পিছনের একটি কারণ জানা গিয়েছিল যে জংলি ভাল্লুকরা এই গুহার মধ্যে বসবাস করত এবং প্রায়শই স্থানীয় গ্রামে আক্রমন করত।

যদিও এখন ওই গুহায় কোন জংলি জানোয়ার বসবাস করে না, কেবলমাত্র দেখতে পাওয়া যায় কিছু হিমালায়ান সজারু কে। অভিযাত্রীরা এও জানিয়েছেন যে তাঁরা মনে করেন প্রথম দুটি গুহা পথ অতীতে একত্রে যাতায়াতের জন্য ছিল কিন্তু প্রত্যেকটি পথে কিছুদূর যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে তাই সেগুলি অপরপ্রান্তে কোথায় বেরোচ্ছে বা কত দূর বিস্তৃত সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।