চুল কাঁটাতেই চিনলো না সার্ভার, চাকরি গেলো উবের ড্রাইভারের

আমরা ভাবি এক আর হয়ে যায় আর এক। ভগবানের কাছে মানত করার জন্য আমরা অনেক কিছু করে থাকি। কিন্তু ভগবানের কাছে আমাদের ব্যক্তিগত মানতের প্রভাব যদি আমাদের কর্ম ক্ষেত্রে পড়ে যায় তা কি কখনো মেনে নেওয়া যায়। ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটল হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা শ্রীকান্ত সঙ্গে। পেশায় উবার চালক শ্রীকান্ত প্রায় দেড় বছর ধরে ট্যাক্সি চালাচ্ছে। তার ভালো ব্যবহারের জন্য তার রেটিং রয়েছে ৫ এর মধ্যে ৪.৬৭। এইভাবেই আস্তে আস্তে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল সে।

কিন্তু তার মাঝখানে ঘটে গেল বিপত্তি। জীবনে আরও উন্নতির জন্য তার সমস্ত চুল তিরুপতি মন্দিরে নিবেদন করেছিল। এর পর ফিরে এসে উবারের পোর্টালে লগইন করতে গিয়ে ঘটে যায় বিপত্তি। মাথায় কোন চুল না থাকার কারণে শ্রীকান্তের মুখ চিনতে পারল না সার্ভার। পরপর চারবার বিভিন্ন উপায়ে লগইন করতে গিয়েও সফল হতে পারলোনা শ্রীকান্ত।

আগের এবং বর্তমান ছবি নিয়ে উবার অফিসের ছুটে গিয়ে কোন কাজ হয়নি। কর্তৃপক্ষ শ্রীকান্ত কে চিনতে না পেরে অবশেষে সরিয়ে দেয় শ্রীকান্তের নাম। চাকরি খোঁজে প্রায় এক মাস ধরে এখন বেকার শ্রীকান্ত। যেখানে উন্নতির জন্য সে চুল কাটার পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেই পদক্ষেপ যে তার জীবন এই ভাবেই দুঃসময় ডেকে আনবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি শ্রীকান্ত।

শ্রীকান্তের এই ঘটনা শেয়ার করেছেন ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স এর জেনারেল সম্পাদক শেখ সালাউদ্দিন। এই ঘটনা শেয়ার হতে না হতেই তুমুল আকারের ভাইরাল হয়ে যায়। নেট দুনিয়ার একাংশের বক্তব্য যে, চুল কাটার পর কি এতটাই মন পাল্টে গেছে সেখান থেকে তাকে চেনা গেল না। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও কেন নেয়া হলো না এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

মুখমন্ডলের সামান্য পরিবর্তন ফেসিয়াল recognition-এ কোন রকম অসুবিধা হয় না বলেই জানি আমরা। কিন্তু সম্পূর্ণ চুল ছেঁটে ফেলে একেবারে অন্য মানুষ দেখতে লাগে তাকে। ঠিক এই কারণেই প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা গেল শ্রীকান্তের জীবনে এবং অবশেষে চাকরি খুইয়ে বেকারত্বের শিকার হতে হলে তাকে।