বাঘের সংখ্যা বাড়লো সুন্দরবনে, খুশি বনদপ্তর

করোনার আবহে কাঁপছে যখন গোটা বিশ্ব তখনই সুন্দর বনের থেকে একটা সুখবর পশ্চিমবাংলা বাসীর কাছে উঠে আসে। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া বাঘ গণনার পরিসংখ্যান থেকে তথ্য জানা যায় যে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ।একসঙ্গে ৮টি বাঘ বাড়ার ঘটনা সুন্দরবনে এই প্রথম ঘটেছে।

ভারত আর বাংলাদেশ জুড়ে সম্মিলিতভাবে অবস্থান করছে সুন্দরবন । সুন্দরবনের বেশিরভাগ এলাকা বাংলাদেশের দখলেই আছে । ফলে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের দিক থেকে বাঘ ভারতে যেমন ঢুকে পড়ে। তেমনভাবেই ভারতের বাঘ ও বাংলাদেশের জঙ্গলে যাতায়াত করে তারও প্রমাণ মিলেছে বনদপ্তরের কাছে।এমনকি বাংলাদেশের দিক দিয়ে আগে বন্যপ্রাণী চোরাকারবারীরা ঢুকে পড়ত সুন্দরবনের জঙ্গলে। ইদানীং বনদপ্তরের নজরদারির জন্য তা অনেক অংশেই কমেছে। আর চোরা শিকারিদের উপরে নজরদারি ফলেই বেড়েছে বাঘের সংখ্যা।

গত বছর সুন্দরবনের জঙ্গলের বিভিন্ন প্রান্তে ৫৭৮টি ক্যামেরা লাগনো হয়েছিল বাঘ গণনার জন্য। এই কাজ টি শুরু করে সুন্দরবন বনদপ্তর এবং ব্যাঘ্র প্রকল্প। তাদের এই বাঘ গণনার কাজে সাহায্য করেছিল WWF, এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল বিভিন্ন বিদেশি প্রযুক্তিরও। তারপরেই দেখা যায়, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ৮টি। এর আগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ছিল ৮৮টি। এখন তা বেড়ে হল ৯৬টি। বাঘ গণনায় একসঙ্গে ৮টি বাঘ বেড়ে যাওয়ার ঘটনা সুন্দরবনের ইতিহাসের এই প্রথম।

ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধিকর্তা ডঃ সুধীর চন্দ্র দাস বলেন, “সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হল সুন্দরবন বাঘের উপযুক্ত আবাসস্থল এবং সেখানে বাঘেরা নিরাপদে আছে এটাই প্রমাণ করে। তাছাড়া প্রতিটি বাঘের ‘হ্যাবিচুয়াল অ্যাকশন’ সেটিও সুন্দরবনে দারুণভাবে কার্যকারী হচ্ছে।”

ব্যাঘ্র বিশেষজ্ঞ জয়দীপ কুণ্ডু বলেন, “সুন্দরবনের জঙ্গলে নেট ফেন্সিং দেওয়ার কারণে জঙ্গলের বাঘ বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না। এর ফলে বাঘের মৃত্যুর হার যেমন একদিকে কমেছে তেমনই জঙ্গলে যথেষ্ট পরিমাণে খাবারেরও জোগান বেড়েছে। শুধু তাই নয় প্রতিটা নদীতে বা খাঁড়িতে বনদপ্তরের ই-পেট্রোলিং চালু হওয়ার কারণে বাঘ পাচারকারীও কমেছে।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন