এখনো নতুন নতুন চিটফান্ড কো’ম্পা’নি’র না’ম শুনতে পাওয়া যাচ্ছে! আমানতকারীদের কি হবে?

হাইকোর্ট মামলার একটি নথী সম্প্রতি সামনে এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, 180 থেকে 182 চিটফান্ড কোম্পানির দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। প্রত্যেকে যদি তার পাওনা গন্ডা বুঝে নেয় তাহলে সেই অর্থ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। শুধু রোজভ্যালি টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদন রয়েছে প্রায ৩৮০০০ কোটি টাকার। সারোদা তে আবেদন রয়েছে ১২০০ থেকে ১৪০০ কোটি টাকার। পইলান চিট ফান্ডের টাকা ফেরতের আবেদন রয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার। অ্যালকেমিস্ট টাকা ফেরতের পরিমাণ প্রায় কয়েক হাজার কোটির মত।

সম্প্রতি চিটফান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ করে দিয়েছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মঞ্জিলা ছেলুর। টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া মসৃণ করার জন্য হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুরেন্দ্র প্রসাদ তালুকদার কমিটি করে দেয়। তালুকদার কমিটি এই মুহূর্তে ৫৪ চিট ফান্ডের টাকা ফেরতের টাকা দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে। চলতি বছরের 31 ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মেয়াদ রয়েছে।

তালুকদার কমিটি কিছু টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন অ্যালকেমিস্ট এবং ভিবজিওর চিটফান্ড এর। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ডিভিশন বেঞ্চ বরাবর চিটফান্ড মামলার শুনানি করে এসেছেন। বিচারপতি বাগচী অন্ধপ্রদেশ কিছু দিন আগে বদলি হয়ে যান। তারপর থেকে কার্যত মামলার শুনানি বন্ধ রয়েছে। মহামারীর প্রক্রিয়া টাকা ফেরতের প্রক্রিয়াকে আরো দীর্ঘায়িত করে দেয়। এই অবস্থায় আমানতকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দোল জানিয়েছেন যে, সব চিটফান্ড মামলার যাবতীয় আবেদনের শুনানি হবে তার ডিভিশন বেঞ্চে।

টাকা ফেরতের আবেদন এর পাশাপাশি রয়েছে জামিনের আবেদন। তালুকদার কমিটির কাছে যে সমস্ত তথ্য রয়েছে সেগুলি সোমবারের মধ্যে আদালতকে জানান নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো তথ্য তুলে ধরা হবে সোমবার, এমনটাই জানিয়েছেন আমানতকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস। এই প্রসঙ্গে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, সব মামলার এক যোগে একই ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হলে টাকা ফেরত প্রক্রিয়া দ্রুত করা যাবে।

এইদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানান যে, চিটফান্ডের ফৌজদারি মামলার শুনানি হবে একই ডিভিশন বেঞ্চে। নাটক আরফার চিটফান্ডের মামলাতেও দুই রকমের মামলার বিচার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে। এরকম কড়া পদক্ষেপ এরপর টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন লক্ষ লক্ষ আমানতকারী। ইতিমধ্যেই অ্যালকেমিস্ট টাকা কমিটির মাধ্যমে পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যেই আলকেমিস্ট ফিরিয়ে দিয়েছে পনের থেকে কুড়ি কোটি টাকা। সম্প্রতি লকডাউনে এই প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। তবে রোজভ্যালি শুনানি হয় তাহলে আমানতকারীদের টাকা পাওয়ার আশা আরো তাড়াতাড়ি বেড়ে যাবে।