সৌরভ গাঙ্গুলি ও ডোনার প্রেম কাহিনী যেকোনো ভালোবাসার গল্পকে হার মানাতে বাধ্য

মহারাজা তোমাকে সেলাম, কথাটি বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কলকাতার যুবরাজ অর্থাৎ সৌরভ গাঙ্গুলীর কথা। তিনি হলেন বাঙালির গর্ব। ভারতের অধিনায়ক। আমরা সকলেই তাকে দাদা বলে ডাকি। তাকে চেনে না এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। সারা ভারতবর্ষের কাছে এই যুবরাজ একজন আইকন।

তার পাশাপাশি তার অর্ধাঙ্গিনী একইভাবে জনপ্রিয়। কথা বলছি ডোনা গাঙ্গুলীর। তাদের ভালোবাসা আমাদের চিরকাল মন জয় করে নেয়। নৃত্যশিল্পী দোলা গাঙ্গুলী সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই প্রেম করেছিলেন সৌরভ গঙ্গুলি। একই পাড়ায় থাকতে তারা। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরকে দেখে মানুষ হয়েছেন।

তাদের বাড়ির দূরত্ব মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটা পথ। একদিন যুবরাজ স্ত্রী তাদের দাম্পত্যের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান যে, বাড়ির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলতেন তার স্বামী। তাকে দেখলেই হাবভাব যেন বদলে যেত তার। হিরোদের মত কলারটা তুলে মিষ্টি হাসি ছুড়ে দিতেন সৌরভ। তবে তাদের সম্পর্কটা খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক ছিল সাপে নেউলে র।

গাঙ্গুলী পরিবারকে একেবারেই পছন্দ করতেন না ডোনা গাঙ্গুলীর বাবা। প্রথমে তারা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সে কথা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলেন তারা। সৌরভ বাবার সঙ্গে পরামর্শ করেন। সৌরভের বাবা তখন বলেছিলেন যে, তুমি শুধুমাত্র তোমার কেরিয়ারে মন দাও। বাদ বাকিটা আমি বুঝে নেবো।

ছেলেকে এই কথা বলার পরে তিনি তিনি ডোনার বাড়িতে চলে যান একমাত্র ছেলের জন্য ডোনার হাত চেয়ে নেবার জন্য। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে চিন্তা করে ডোনার বাবাও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। যে তরুণ বয়সে মহারাজ ক্রিকেট দুনিয়ার সাফল্যের শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে ডোনার বাবার সাধ্য ছিল না না বলার।

এরপর তাদের ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায়। দুজনেই তাদের নিজেদের ক্যারিয়ারের মন দেন। আজ তারা দুইজনই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে গেছেন। তাদের একমাত্র মেয়ে সানা। সুখী পরিবারের এক অনন্য নিদর্শন হলেন সৌরভ গাঙ্গুলীর পরিবার।