১৯ কেজি সোনায় মুড়ে ফেলা হলো কামাক্ষ্যা মন্দির, নৈপথ্যে রিলায়েন্স

আসাম রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটি শহরে অবস্থিত নীলাচল পর্বতে রয়েছে কামাখ্যা মন্দির। পুরাণ অনুসারে, ৫১ সতীপীঠের এক অন্যতম পীঠ হলো কামাখ্যা। কথিত আছে, দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এই স্থানে পতিত হয়। তাই দেবী কামাখ্যা উর্বরতার দেবী হিসেবে পূজিতা হন। এই মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মন্দিরের চূড়া। গম্বুজের মতো আকৃতি বিশিষ্ট সেই চূড়াকেই এবার নবরূপে সাজানো হলো। উদ্যোক্তা রিলায়েন্স কোম্পানির মালিক মুকেশ আম্বানি।

কামাখ্যা মন্দিরের চূড়া সোনায় মুড়ে দিলেন মুকেশ আম্বানি। জাগ্রত এই মন্দিরের গম্বুজ সাজাতে রিলায়েন্স কোম্পানির তরফ থেকে ১৯ কেজি সোনার আলোর সাজ প্রদান করা হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, আসাম রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কামাখ্যা মন্দিরের একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনিই মন্দিরের সৌন্দর্যায়নের উদ্দেশ্যে রিলায়েন্স কোম্পানির মালিক মুকেশ আম্বানির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মন্দিরের এক আধিকারিকের তরফ থেকে জানা গেল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত সেপ্টেম্বর মাসে রিলায়েন্স কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রস্তাব রাখেন। তারপরেই রিলায়েন্সের তরফ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে মন্দিরের প্রধান গম্বুজ সোনার সাজে সাজানোর ব্যবস্থা করা হয়। এর জন্য প্রথমে মুম্বাই থেকে ১০ জন তামার শিল্পীকে অসমে আনানো হয়। এরা তিনটি কলসে তামার কাঠামো তৈরি করেছেন।

তামার শিল্পীদের কাজ শেষ হওয়ার পর ১২ জন বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন শিল্পীকেও অসমে আনানো হয়। যারা বাকি কাজ সম্পন্ন করেছেন। উল্লেখ্য, মন্দিরের বাকি তিনটি কলস ইতিমধ্যেই ভক্তরা সোনা দিয়ে মুড়ে দিয়েছেন। বাকি তিনটি গম্বুজ যার মধ্যে একটি প্রধান গম্বুজও রয়েছে, তার সৌন্দর্যায়ন করল রিলায়েন্স কর্তৃপক্ষ। সোনার আলোর সাজে মোড়ানো গম্বুজের উদ্বোধন করতে কামাখ্যা ইতিমধ্যে ছোট করে একটি অনুষ্ঠান হয়ে গিয়েছে। কোভিড সংক্রান্ত সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেবী পূজা, কুমারী পূজার পর গম্বুজের উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।