জালিয়ানওয়ালাবাগ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের তথ্য এই বাঙালির কারণেই রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে! জেনে নিন

ইতিহাসের পাতায় সারা জীবন লেখা থাকবে জালিওনাবাগ হত্যাকাণ্ডের কথা। আজ থেকে ১০২ বছর আগে জালিওনাবাগে যে হত্যাকান্ড ঘটে ছিল সেখানে গুলি চলে ছিল প্রায় ১৬০০ রাউন্ড। তবে সেদিন সেখানে যদি উপস্থিত না থাকতেন এক বাঙালি ডাক্তার বাবু, তাহলে ইংরেজরা সমস্ত হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ লোপাট করে ফেলতেন। আজ এখানে গড়ে উঠেছে হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিসৌধ, এক বাঙ্গালী যদি যেতে না চেপে ধরে বসে থাকতো তাহলে সেখানে এতদিন হয়ে যেত বাজার। সমস্ত ইতিহাস চাপা পড়ে যেত। কিন্তু ইংরেজদের তথ্য লোপাটের কাজে বাধা হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন এক বাঙালি ডাক্তার বাবু।

Memorialising, and Remembering, Jallianwala Bagh - The Economic Times

আজও সেই ডাক্তারবাবুর পরিবার আগলে রেখেছে জালিওনাবাগ কে। সেই বাঙালির নাম ষষ্ঠী চরন মুখার্জি। চাকরি শুরুতে তিনি থাকতেন এলাহাবাদে। তিনি মদনমোহন মালব্যর প্রিয় পাত্র ছিলেন। মদনমোহন মালব্য ষষ্ঠী চরণ কে ১৯১০ সালে আমৃৎসার পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি আর ফেরেননি বাংলায়। ডাক্তারবাবু নিজের চোখের সামনে দেখেছিলেন জালিওনাবাগ এর হত্যাকান্ড। সেই সময় কোন রকমে মঞ্চের আড়ালে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে নিজের। তারপর কালের নিয়মে সেখানে গড়ে উঠেছে স্মৃতিসৌধ।

Jallianwala Bagh massacre: Scars fresh even after 100 years

তবে স্মৃতিসৌধের জায়গায় ব্রিটিশরা কাপড়ের মার্কেট বানাতে চেয়েছিলেন। চেয়ে ছিলেন সমস্ত গণহত্যার প্রমাণ লোপাট করতে। কিন্তু সেটা হতে দেননি বাঙালি ডাক্তার বাবু। তখন সাড়ে ছয় একর জালিওনাবাগ এর জমির মালিক ছিলেন হিম্মত সিং। তার থেকে এই জমি ষষ্ঠী চরন কিনে নেবেন বলে ঠিক করলেন। কিন্তু তখনই জমির দাম প্রায় ছিল সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা, অত টাকা কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে চিন্তা শুরু হয়ে গেল ডাক্তার বাবুর।

তখন গান্ধীজীর সহায়তায় মুখার্জীবাবু নিজেই দরজা দরজা ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করেন। সেই অর্থ দিয়ে জমি কিনে স্মৃতিসৌধ বানান তিনি। তবে এই পথ এত সহজ হয়নি। জমি কেনার জন্য তাকে জেলে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেও ব্রিটিশ তার জমির দখল করতে পারেনি।

১৯৫১ সালে আমাদের দেশে প্রথম তৈরি হয় জালিওনাবাগ নেশনাল মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। যার প্রথম সম্পাদক ছিলেন ডাক্তার ষষ্ঠী চরন মুখার্জি। চেয়ারম্যান হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আজ সেই ট্রাস্টের সম্পাদক ডাক্তারবাবুর নাতি সুকুমার মুখার্জি। রাওলাট সত্যাগ্রহ কে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক আন্দোলন সূচনা হয়েছিল তার, চরম পরিণতি হয়েছিল জালিওনাবাগ এর নির্মম হত্যাকাণ্ডে। যার বিবরণ আমরা পেয়ে থাকি ইতিহাসের পাতায়।