কোনো অপরাধ ছাড়াই দীর্ঘ ১৮ বছর পাকিস্তানে ছিলেন বন্দি, মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরলেন ভারতীয় বৃদ্ধা

বিনা অপরাধে, স্রেফ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কতশত মানুষ ভিনদেশের কারাগারে বছরের পর বছর বন্দী হয়ে রয়েছেন! কেউ কেউ নিজের অর্ধেক জীবন, এমনকি সারা জীবনই পররাষ্ট্রের কারাগারের অন্ধকারে কাটিয়ে দিচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেরই আর নিজের রাষ্ট্রে ফিরে আসা হয় না। তবে ৬৫ বছরের হাসিনা বেগমের কিন্তু নিজের জন্মভুমিতে ফিরে আসার সুযোগ হয়েছে। তবে মাঝখানে পেরিয়ে গিয়েছে ১৮টা বছর!

১৮ বছর আগে হাসিনা তার স্বামীর সঙ্গে পাকিস্তানে এসেছিলেন স্বামীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে। সেই সময় দুর্ভাগ্যবশত তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়াতে লাহোর পুলিশ তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখে। পুলিশের কাছে বারবার তিনি তার আবেদন জানিয়েছেন, সব ঘটনা খুলে বলেছেন, তবুও লাহোর পুলিশ তার কথায় কর্ণপাত করেনি।

১৮ বছর ধরে ওই প্রৌঢ়া মহিলা বিদেশের কারাগারে বন্দি থেকেছেন। অবশেষে তার দুর্দশার কথা জানতে পারে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ পুলিশ। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে তার নামে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। সেই নিখোঁজ ডায়েরির রিপোর্ট এসে পৌঁছায় লাহোর পুলিশের কাছে। লাহোর পুলিশের তৎপরতায় শেষমেষ পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পান হাসিনা বেগম। তাই অরঙ্গাবাদ পুলিশের কাছে তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

এতদিন পর দেশের মাটিতে ফিরে আসতে পেরে তিনি ভীষণ খুশি। দেশে ফিরে দারুন শান্তি অনুভব করছেন হাসিনা বেগম। পাকিস্তানের জেলে এতদিন তাকে জোর করে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। বিগত বছরগুলিতে তাকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। গত সপ্তাহেই মুক্তি পেয়ে নিজের দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন হাসিনা বেগম। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নিয়ম নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল পেরিয়ে অবশেষে নিজের জন্মভুমিতে ফিরতে পেরে হাসিনা ভীষণ খুশি এবং স্বস্তি বোধ করছেন।