নিমিষে গলছে বরফ, বড়ো বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে সমুদ্র তীরবর্তী এইসব শহর

দ্রুত হারে বৃক্ষ ছেদনের খেলে আমাদের বিশ্বে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন দেখা গেছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমগ্র পৃথিবীর জলবায়ু একটু একটু করে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এই বিষয়গুলো নিয়েই পরিবেশবিদদের মনে চিন্তায় কপালের ভাঁজ পড়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্য হওয়ার মত একটি ঘটনা ঘটেছে গ্রিনল্যান্ডে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে গ্রীনল্যান্ডের বরফ গলে জলে পরিণত হতে শুরু করেছে। আরি বরফ গলা জলের দ্বারা সমুদ্রপৃষ্ঠ জলস্তর অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন এই পরিবেশবিদরা। বিগত ১২০০০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা দেখা যায়নি।

নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে জানা যায় সর্বশেষ যে তুষারযুগ এসেছিল পৃথিবীতে, তার আগে ছিল হলোসিন যুগ। হলোসিন যুগেও গ্রীনল্যান্ডের বরফ গলতে শুরু করেছিল। এবারও ঠিক সেই হলোসিন যুগকে পাল্লা দিয়ে বরফ গলা শুরু হয়েছে। হলোসিন যুগে পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ৫.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আমাদের এই যুগেও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ার জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা আরও বাড়বে।

বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেসন ব্রাইনার জানিয়েছেন এইভাবে বরফ গলতে থাকতে একবিংশ শতাব্দীর শেষ হওয়ার আগেই ২ থেকে ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে সমুদ্রের জলস্তর। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমাদের অপকর্মের ফল এই গ্রিনল্যান্ডে যেভাবে বরফ গলতে শুরু করেছে বিগত ১২ হাজার বছরে এমন ঘটনা দেখা যায়নি।

গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটির প্রায় ৮০ শতাংশই বরফাবৃত। ওই অঞ্চলের প্রায় ৬,৬০০০০ বর্গ মাইল জুড়ে রয়েছে বরফ। একটি গবেষণার তথ্য থেকে জানা যায় ৭ থেকে ১০ হাজার বছর আগে গ্রীনল্যান্ডের বরফের পাতের সঙ্কোচন হয়েছিল। আবার ৪ হাজার বছর কিন্তু বরফের পাতের প্রসারণই ঘটেছে। বর্তমানে সংকোচন নির্মাণ সমপরিমাণ থাকলেও এক হাজার বছরের মধ্যে গ্রীনল্যান্ড থেকে বরফ উধাও হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

এই বছরের প্রথমদিকে আন্টার্টিকার এক ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছিল। নাসার ওই ছবি দেখে আতঙ্কিত হয়েছিল বিশ্ববাসী। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে আন্টার্টিকার বড় বড় বরফের চাঁই মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙ্গে পড়ছে। এই বরফের স্তুপ ভেঙে পড়ার ফলে সমুদ্রের জল স্তর বাড়তে পারে। মাত্র 9 দিনে আন্টার্টিকায় কুড়ি শতাংশ বলে ছিল তাহলে আগামী দিনে কি ভয়াবহ ঘটনা অপেক্ষা করে আছে তারা সকলেই বুঝতে পারছে।