বাবার চিকিৎসার জন্য সাহায্যের কাতর আর্তি মেয়ের

আলিপুরদুয়ার:- প্রায় এক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবা। বাবার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আর্জি জানালেন মেয়েরা। ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবনাথ পাড়ার বাসিন্দা ইসরাজুল হক (৩৫)। পেশায় তিনি দিনমজুর। জানা গিয়েছে, ওই ব্যাক্তি গত এক বছর ধরে কার্যত শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটাচ্ছে। চিকিৎসা করার সামর্থ্য নেই পরিবারটির। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী এই অবস্থা দেখে তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে সকলেই এখন দিশেহারা। অসুস্থ ইসরাজুলের মা হাসিরোন নেছার আর্জি, “আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য কেউ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে চির কৃতজ্ঞ হব। যত দিন যাচ্ছে ছেলে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছর ধরেই সে অসুস্থ। বিভিন্ন পরীক্ষা- নিরীক্ষায় ধরা পড়ে সে ক্যান্সারে আকান্ত। বর্তমানে মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তার চিকিৎসার জন্য প্রচুর মোটা টাকার দরকার। কিন্তু যার নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেই পরিবার এই জটিল রোগের চিকিৎসা করবে কীভাবে! তাই স্থানীয় বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি থেকে অনেকের কাছেই গিয়েও কোনও সাহায্য পাইনি পরিবার। একদিকে পরিবারের অভাব অনটনে তাদের দু’বেলা খাবার জোটানো যেমন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শয্যাশায়ী রোগীর কোনও চিকিৎসাই তারা করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে সেই পরিবার চাইছে কোনও সহৃদয় মানুষ একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক। এদিন মেয়ে রেশমা পারভীন জানান, “সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাবার চিকিৎসা করার মত অর্থ নেই। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বানিয়ে দেওয়ারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।” তবে কী ইসরাজুলে পাশে দাঁড়াবে কেউ? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে তার পরিবার এবং প্রতিবেশিরাও। সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দারই সেরকম স্বচ্ছলতা নেই যে তারা ওর চিকিৎসার মোটা টাকার খরচ বহন করবে।

তবে একটি তরতাজা মানুষ এমন অসুস্থতা যেন কেউই মেনে নিতে পারছে না। যদি কেউ একটু সহযোগিতা করে তাহলে হয়তো ইসরাজুল আবার একটি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসতে পারে। এবিষয়ে জটেশ্বর ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সমরেশ পাল বলেন, ” বিষয়টি শুনেছি, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”এছাড়াও পরিবারের বাকিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।” এদিকে সকলের সাহায্যের অপেক্ষায় দিন গুনছে ওই পরিবারটি।