চক্রাকারে ঘুরতে থাকে এখানে স্রোত, এই সমুদ্র দিয়ে যেতে পারে না কোনো জাহাজ

সমুদ্রের তীরে একলা বসে থাকলে যেন অপার একটু শান্তি পাওয়া যায়। নিরন্তন এবং অগুনতি সমুদ্রের ঢেউ আমাদের মনকে প্রশান্ত করে। কিন্তু এই পৃথিবীতে এমন একটি সাগর রয়েছে তার কোন তির নেই, শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হলেও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে গেলেই দেখতে পাবেন এর অস্তিত্ব। এই সাগর টির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ যথাক্রমে ৩২০০ কিমি ও ১১০০ কিমি। এই সাগর দিকে ঘিরে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের গালফ স্ট্রিম, আটলান্টিক কারেন্ট, কেন রিকারেন্ট এবং নর্থ ইকোয়াটরিয়াল।

এই চারটি স্তর যথাক্রমে চক্রাকারে ঘুরে চলেছে এই সাগরের চারপাশে। এরফলে এই সাগরটি হলো একটি শান্ত অঞ্চল। অসংখ্য উপন্যাস এবং গল্পে এই সাগরের অস্তিত্ব আমরা জানতে পারি। সারগাসো নামটি রেখেছিলেন পর্তুগিজরা। এর পেছনে রয়েছে একটি কাহিনী।

পর্তুগিজরা এই সাগরের বুকে দেখেছিল সামুদ্রিক শৈবাল যার নাম সারগাসাম। তবে এই সাগর টি আবার কোন কোন জায়গায় ভীষণভাবে ভয়ানক। সাগরের কোন কোন জায়গায় শৈবালের স্তর এতোটাই পুরু হয়ে রয়েছে যে সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচল পর্যন্ত করতে পারে না অন্যদিকে, জলের মধ্যে কোন স্রোত না থাকার ফলে স্রোতের সাহায্য পায় না জাহাজগুলি। জাহাজ চালাতে গেলে সাগরের মধ্যে থাকা তাহলে অনেক সময় প্রপেলারের জড়িয়ে যেতে পারে। ফলে একই জায়গার অনিদৃষ্টকালের জন্য আটকে যায় জাহাজগুলি।

আবার শুনতে পাওয়া যায় যে, একবার ইউরোপীয় জাহাজ প্রচুর ঘোড়া নিয়ে এই সাগরে চলে এসেছিল। ঘোড়াগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বিক্রির উদ্দেশ্যে। এই সাগরে ঢুকে যাবার পর হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় জাহাজের গতি। জাহাজকে হালকা করার জন্য একের পরে এক সমস্ত ঘোড়া জলে ফেলে দিতে বাধ্য হয় নাবিকরা। এই সাগরের জল ঘন নীল এবং এতটাই স্বচ্ছ যে জলের নিচে ২০০ ফুট পর্যন্ত দৃষ্টি চলে।